দিনের ২৪ ঘণ্টা। তার মধ্যে আট ঘণ্টা কাজ, আট ঘণ্টা নিজের জন্য এবং আট ঘণ্টা ঘুম। শরীর-মন ভালো রাখতে এমনই রুটিন মেনে চলেন অভিনেতা অক্ষয় কুমার। ৫৮ বছর বয়সেও তাঁর ফিটনেস ও কর্মক্ষমতার অন্যতম রহস্য এই ৮-৮-৮ নিয়ম, এমনটাই জানিয়েছেন অভিনেতা। কিন্তু ব্যস্ত জীবনে সত্যিই কি এই নিয়ম মেনে চলা সম্ভব? (Akshay Kumar Fitness)
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মটি ভালো। তবে প্রতিদিন ঘড়ি ধরে ৮-৮-৮ ভাগ করা বাস্তবে কঠিন।
কী এই ৮-৮-৮ ফর্মুলা?
৮-৮-৮ ফর্মুলা হল দিনের ২৪ ঘণ্টাকে তিনটি সমান ভাগে ভাগ করার একটি সময়-পরিকল্পনা। এর মধ্যে ৮ ঘণ্টা কাজ বা পেশাগত দায়িত্বের জন্য, ৮ ঘণ্টা ঘুমের জন্য এবং বাকি ৮ ঘণ্টা নিজের জন্য—যেখানে পরিবারকে সময় দেওয়া, খাওয়া, শরীরচর্চা, শখের কাজ, বিনোদন কিংবা বিশ্রাম রাখা যায়। মূল উদ্দেশ্য হল কাজের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম এবং ব্যক্তিগত জীবনের জন্যও নির্দিষ্ট সময় নিশ্চিত করা। (Akshay Kumar Fitness)
সংখ্যার চেয়ে জরুরি ঘুম
সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ের AM Medical Centre-এর শ্রেয়া পোদ্দারের মতে, ৮-৮-৮ নিয়মকে কঠোর নিয়ম না ভেবে একটি আদর্শ রুটিন হিসেবে দেখা উচিত। চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, নতুন বাবা-মা কিংবা শিফটে কাজ করা কর্মীদের পক্ষে প্রতিদিন সমান ভাগে সময় দেওয়া সম্ভব নয়।
তাঁর মতে, কত ঘণ্টা কোন কাজে গেল, তার চেয়ে পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর অভ্যাস, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং শরীরকে বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া বেশি জরুরি। (Akshay Kumar Fitness)
ব্যস্ত পেশায় সমস্যা বেশি
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মধুজা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মনে করেন, নিয়মটির মূল ভাবনা ভালো। তবে বাস্তবে তা মেনে চলা সহজ নয়। চিকিৎসক, সংবাদমাধ্যমের কর্মী বা টার্গেট-নির্ভর পেশায় কাজের সময় অনেক সময় ৯টা-৫টার সীমা ছাড়িয়ে যায়। বিশেষ করে ভারতে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও কম ছুটির কারণে নিয়মিত কাজ-ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য রাখা কঠিন। (Akshay Kumar Fitness)
তবে ৮-৮-৮ সম্ভব না হলেও পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিকভাবে স্বস্তি দেয় এমন কাজের জন্য সময় রাখা জরুরি। বাগান করা, ছবি আঁকা, রান্না বা শরীরচর্চার মতো কাজ চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ডিজিটাল দুনিয়ায় ঘুমের সমস্যা
কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট সালোনি প্রিয়ার মতে, ৮-৮-৮ নিয়ম শরীরের স্বাভাবিক ঘড়ির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পর্যাপ্ত ঘুম শক্তি, মনোযোগ এবং মানসিক সুস্থতা বাড়ায়।
তবে সোশ্যাল মিডিয়া, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ও রাতে অনলাইনে থাকার অভ্যাস বিশেষ করে তরুণদের ঘুমের সময় বদলে দিয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলা আরও কঠিন হচ্ছে। (Akshay Kumar Fitness)
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য একটাই। অক্ষয় কুমারের মতো হুবহু ৮-৮-৮ মেনে চলা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। তবে কাজ, বিশ্রাম এবং নিজের জন্য সময়—এই তিনটির মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা অবশ্যই স্বাস্থ্যকর।
আরও পড়ুন :- মাত্র ৫৬ দিনে ৯ কেজি কমলো ওজন, নিজের ওয়েটলস জার্নি শেয়ার জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরের













2 thoughts on “অক্ষয়ের ৮-৮-৮ ফর্মুলা কি সত্যিই স্বাস্থ্যকর? বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যায় মিলল উত্তর”