বাড়ির উঠোনের আমগাছগুলোর দিকে তাকিয়ে একসময় তাঁর মনে হতো, এত আম ফলিয়ে লাভ কী? সময়মতো ক্রেতা না এলে আম পচে যেত। (Women Mango Farmer) তাই বাধ্য হয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীর বলা দামেই বিক্রি করতে হতো। আজ সেই একই বাগানের আম পাড়ি দিচ্ছে সুদূর ইংল্যান্ড, ইতালি, এমনকী সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতেও। বদলে গিয়েছে ৫০ বছরের ঝাড়খণ্ডের সিমডেগা বিরনিবেড়ার কৃষক জিয়ান্তি বারার আয়ও।
Women Mango Farmer: স্থানীয় ব্যবসায়ীর উপর নির্ভরতা থেকে বড় বাজার
বিরনিবেড়া গ্রামের জিয়ান্তি প্রায় আট বছর ধরে আম্রপালি আমের চাষ করছেন। আগে প্রায় ২০ টাকা কেজি দরে আম বিক্রি করে তাঁর আয় হতো প্রায় ২৫ হাজার টাকা। এ বছর FPO-র মাধ্যমে প্রায় ২ টন আম বিক্রি করে আয় হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। সংগঠিত বাজারে দাম উঠেছে প্রায় ৩১ টাকা কেজি, রফতানিযোগ্য মানের আমে মিলেছে প্রায় ৪২ টাকা পর্যন্ত।
এই বদলের পিছনে রয়েছে ঝাড়খণ্ডের বিরসা হরিত গ্রাম যোজনা (BHGY)। প্রায় ১.৮৬ লক্ষ একর জমিতে তৈরি বাগান থেকে ২০২৬ সালে উপকৃত প্রায় ২.১৫ লক্ষ গ্রামীণ পরিবার। PRADAN, JSLPS, জেলা প্রশাসন, DRDA ও MGNREGA-র সহযোগিতায় কৃষকদের শেখানো হয় সঠিক সময়ে আম পাড়া, আমের আঠা পরিষ্কার করা, বাছাই করা, মান অনুযায়ী শ্রেণিবিন্যাস ও প্যাকেজিং।
FPO-তেই বদলাল দর-কষাকষির ক্ষমতা
মহিলা জাগৃতি ও বিউরা কৃষক উৎপাদক কোম্পানি-সহ ৩৭টি FPO-র ১১,৩৪৭ সদস্য কৃষক এখন একসঙ্গে আম সংগ্রহ ও বাজারজাত করছেন। প্রায় ৪৬,৫৮৬ মহিলা কৃষক সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন। মে মাসে সিমডেগা থেকে প্রথম বড় চালান যায় হান্ডিয়ায়, ২ জুন ইংল্যান্ডে এবং ১৬ জুন ইতালিতে যায় প্রথম রফতানি চালান। ঝাড়খণ্ড থেকে মোট ১৫.৮ মেট্রিক টন আম ৯টি চালানে বিদেশে গিয়েছে। (Women Mango Farmer)
Women Mango Farmer: ‘আমরাও সিদ্ধান্ত নিচ্ছি’
অন্যদিকে সিমডেগার বুরুহোনজার গ্রামের ৩৫ বছরের দেওয়ন্তী দেবী বিউরা FPO-র সঙ্গে যুক্ত। তাঁর কথায়, আগে পুরুষরাই মূলত আম বিক্রির সিদ্ধান্ত নিতেন। এখন মহিলারাও কৃষি, বাজার ও দামের বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।
জিয়ান্তির কথায়, “আগে আম নষ্ট হয়ে যেত। এখন জানি, আমাদের ফলও বড় বাজারে পৌঁছতে পারে।” তাঁর কাছে এই পরিবর্তন শুধু বেশি দাম পাওয়ার নয়—নিজের পরিশ্রমের মূল্য পাওয়ারও গল্প।
বেসমেন্ট খুঁড়তেই বিপত্তি, প্রয়াগরাজে ভেঙে পড়ল মন্দিরের দেওয়াল; ৩ জনের বিরুদ্ধে FIR












