হরিয়ানার প্রিন্স কুমার কাশ্যপকে মনে আছে? আরও নির্দিষ্ট করে বললে প্রিন্সকে মনে আছে? যাকে নিয়ে ২০০৬ সালে উত্তাল হয়েছিল দেশের সংবাদমাধ্যম। ৬০ ফুট গভীর পরিত্যক্ত নলকূপে টানা দু’দিন বন্দি থাকার পরে তাকে উদ্ধার করা হয়েছিল। অন্ধকূপ থেকে জীবিত অবস্থায় বেরিয়ে আসার পরে সবার কাছে ‘দেবশিশু’ পরিচয় পেয়েছিল কুরুক্ষেত্রের (Kurukshetra Miracle Boy Prince) হলধেরি গ্রামের পাঁচ বছরের সেই বালক। কেমন আছে সেই প্রিন্স?
এই ভাবে কেটে গিয়েছে ২০ বছর। অতীতের সঙ্গে বর্তমানের ফারাক এখন বিস্তর। আর ‘দেবশিশু’ নয় প্রিন্স। ডাক আসে না কীর্তনের আসর থেকেও। বেসরকারি স্কুল থেকে ছাড়িয়ে তাকে ভর্তি করা হয়েছিল গ্রামের সরকারি স্কুলে।
সম্প্রতি এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঘটনাটি স্মরণ করে প্রিন্স জানান, কীভাবে শৈশবের একটি সাধারণ মুহূর্ত জীবন-মরণের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছিল। তিনি ও তাঁর বন্ধু আংরেজ একটি নলকূপের কাছে খেলছিলেন, তখন তাঁরা একটি ছোট ইঁদুর দেখতে পান। কৌতূহলী ও খেলার ছলে তারা ইঁদুর দুটিকে তাড়া করে, আর সেটি নলকূপের ভিতরে ঢুকে যায়। নলকূপটি একটি বস্তা দিয়ে আলগাভাবে ঢাকা ছিল। যেই ঢাকনাটির ওপর তারা লাফিয়ে পড়ে, সেই মুহূর্তে সব সমেত কুয়োর ভিতরে ঢুকে যায়। আংরেজ নিজের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারলেও প্রিন্স প্রায় ৬০ ফুট নিচে সরু নলকূপের ভেতরে পড়ে যায়।
৪৮ ঘণ্টার চেষ্টায় সেনাবাহিনীর জওয়ানরা উদ্ধার করে প্রিন্সকে। সারা দেশের বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত হয় সেই উদ্ধারপর্ব।
ভূগর্ভে কাটানো সেই দীর্ঘ সময়গুলোর কিছু টুকরো টুকরো স্মৃতি প্রিন্সের মনে আছে। তার মনে পড়ে, নলকূপের উপরে মরিয়া হয়ে অপেক্ষারত তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে সেই সময় আশ্বাসের বার্তা পাচ্ছিল সে। প্রথমে উদ্ধারকারী দল আলো লাগানো একটি দড়ি নিচে নামানোর চেষ্টা করেছিল, যাতে সে দেখে উপরে উঠতে পারে, কিন্তু বাল্বটি অতিরিক্ত গরম হয়ে তার হাত পুড়িয়ে দেয় এবং তাকে দড়িটি ছেড়ে দিতে বাধ্য করে।
অবশেষে, উদ্ধারকারীরা একটি ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন। তাঁরা নলকূপটির (Kurukshetra Miracle Boy Prince) কাছে একটি সমান্তরাল কূপ খনন করেন এবং একটি পাইপ ব্যবস্থা ব্যবহার করে তাঁর কাছে পৌঁছন। সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকারী দলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রিন্সকে নিরাপদে বাঁচানো যায় । তিনি বলেন, কূপের ভেতরে দড়ির মাধ্যমে বেঁচে থাকার জন্য খাবার ও অন্যান্য জিনিসপত্র পাওয়ার সেই মুহূর্তগুলোর কথাও তাঁর মাঝে মধ্যে মনে পড়ে।
আজ প্রিন্স সুস্থ এবং সামনে এগিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (আইটিআই) প্রশিক্ষণ শেষ করে তিনি চাকরি খুঁজছেন। একসময় তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। তার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছিল। কিন্তু তাঁর উচ্চতা তার স্বপ্নপূরণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আপাতত ভবিষ্যতে বড় কিছু করাই লক্ষ্য প্রিন্সের।











