নাগপুরের একটি ভাড়া ঘর। ঘরের ভিতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে কাগজ, এক পাশে রাখা প্রিন্টার, আর বালতির মধ্যে সাজানো গাদা গাদা ৫০০ টাকার নোট। প্রথম দেখায় সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও, কাছে যেতেই চোখ কপালে উঠল বাড়ির মালিকের। কারণ, ঘরের ভিতরে যা রয়েছে, তা আসলে জাল নোটের স্তূপ। অভিযোগ, প্রায় ৩৭ লক্ষ টাকার জাল নোট ছাপিয়েছেন ভাড়াটে পুষ্পক কৃষ্ণ ভান্ডারকর। আর এই কারবারের পরিমাণ আরও বড় হতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। ঘটনাটি মহারাষ্ট্রের নাগপুরের খারবি এলাকার। অভিযুক্ত পুষ্পক কৃষ্ণ ভান্ডারকর ওরফে বেন্দানে নাগপুরের ত্রিমূর্তি নগরের বাসিন্দা। তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে ওয়াথোড়া থানার পুলিশ। (Fake Currency Notes)
ভাড়া বাকি, ঘর ছাড়ার নির্দেশ
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দেড় বছর আগে খারবি এলাকায় একটি ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন পুষ্পক। জানুয়ারিতে ভাড়ার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। অভিযোগ, তার পর বেশ কয়েক মাসের ভাড়াও দেননি তিনি। বাড়ির মালিক রমেশ তাঁকে ঘর ছেড়ে দিতে বললে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। (Fake Currency Notes) অভিযোগ, সেই সময় ছুরি দেখিয়ে বাড়ির মালিককে হুমকি দেন পুষ্পক। এর পর ওয়াথোড়া থানায় অভিযোগ জানান রমেশ। পুলিশ একটি নন-কগনিজেবল অভিযোগ নথিভুক্ত করে।
তালা ভাঙতেই বেরিয়ে এল রহস্য
দীর্ঘদিন ঘরে আসছিলেন না ভাড়াটে। শনিবার আর অপেক্ষা না করে হাতুড়ি দিয়ে ঘরের তালা ভাঙেন রমেশ। ভিতরে ঢুকেই বালতির মধ্যে নোটের বান্ডিল দেখতে পান তিনি। ঘরে ছড়িয়ে ছিল কাগজপত্র। ছিল একটি প্রিন্টারও। সন্দেহ হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন তিনি। পুলিশ এসে তল্লাশি চালিয়ে ৫০০ টাকার জাল নোটের একাধিক বান্ডিল উদ্ধার করে। (Fake Currency Notes) নোট গুনতে আনা হয় কাউন্টিং মেশিন। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৩৭ লক্ষ টাকার জাল নোট ছাপানো হয়েছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।
উদ্ধার সামগ্রীর মূল্য ৪৮ লক্ষ টাকা
তল্লাশিতে একদিকে ছাপা নোটের পাশাপাশি অসম্পূর্ণ নোট এবং ছাপার বিভিন্ন সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে। কিছু কাগজে নোটের এক পিঠ ছাপা থাকলেও অন্য পিঠ ছিল ফাঁকা। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া নোট ও সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪৮ লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে, অভিযুক্তের খোঁজ করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, তিনি মুম্বইয়ে রয়েছেন। তাঁকে ধরতে মুম্বইয়ে পুলিশের দল পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। কীভাবে এই জাল নোটের কারবার চলছিল, তার তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে ভাড়ার টাকা না দেওয়ার অভিযোগ থেকে ঘরের ভিতরে এমন জাল নোটের কারখানা, গোটা ঘটনায় বিস্মিত তদন্তকারীরাও। (Fake Currency Notes)













1 thought on “ভাড়া মেটাতে না পেরে জাল নোট প্রিন্ট, নাগপুরে উদ্ধার চক্রের”
Comments are closed.