এক চালায় লক্ষ্মী, সরস্বতী ও নারায়ণ। আর মেলার মূল আকর্ষণ মাত্র একটি জিলিপির দোকান। ১৬৪ বছরের ঐতিহ্য মেনে ঝাড়গ্রাম জেলার বিনপুর-২ ব্লকের হাড়দা গ্রামে পালিত হয় কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। পুজোকে কেন্দ্র করে পাঁচ থেকে ছয় দিন ধরে চলে উৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলা। দূরদূরান্ত থেকে আত্মীয়স্বজন ও দর্শনার্থীদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে ওঠে গোটা গ্রাম। (Hardar Lakshmi Puja)
একই চালায় লক্ষ্মী, সরস্বতী ও নারায়ণ
স্থানীয়দের দাবি, ১৮৬২ সালে অক্রুর মণ্ডল স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই পুজোর সূচনা করেন। প্রথমে সাহা ও মণ্ডল পরিবারের উদ্যোগে পুজো শুরু হলেও বর্তমানে তা সর্বজনীন রূপ নিয়েছে। বিষ্ণুপুরাণের বিশ্বাস অনুসারে, এখানে লক্ষ্মী ও সরস্বতীকে নারায়ণের দুই স্ত্রী হিসেবে পুজো করা হয়। দুই দেবীর উপরে থাকেন নারায়ণ। পাশে থাকেন চার সহচরী, যাঁরা স্থানীয়ভাবে ‘লুকলুকানি’ নামে পরিচিত। দুই বড় মূর্তিকে দাসী হিসেবে মানা হয়। লক্ষ্মীপুজোয় এমন প্রতিমা ঝাড়গ্রাম জেলায় বিরল বলেই দাবি উদ্যোক্তাদের। (Hardar Lakshmi Puja)
পাঁচ দিন ধরে উৎসব, বাজেট সাত লক্ষ
পুজো কমিটির সদস্যদের কথায়, এই উৎসব গ্রামের মানুষের মিলনমেলা। বাইরে কর্মসূত্রে থাকা বহু মানুষ এই সময়ে বাড়ি ফেরেন। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, আসানসোল, ঝাড়খণ্ড, ওডিশা ও কলকাতা থেকে আত্মীয়স্বজন আসেন। বিদেশে থাকা পরিবারের সদস্যরাও পুজোয় যোগ দিতে আসেন। এ বছরের পুজোর বাজেট প্রায় সাত লক্ষ টাকা। উৎসবের প্রথম দিন থাকছে পরিবেশবান্ধব আতসবাজির অনুষ্ঠান। পরের দু’দিন যাত্রাপালা। এরপর ‘অরূপ ডান্স অ্যাকাডেমি’র নৃত্যানুষ্ঠান এবং জি বাংলার ধারাবাহিকের শিল্পীদের নিয়ে আরও একটি অনুষ্ঠান হবে।
মেলার প্রাণ একটিই জিলিপির দোকান
হাড়দার মেলার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী জিলিপি। গোটা মেলায় মাত্র একটি দোকান বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়। নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা দোকান বসানোর সুযোগ পান। এ বছর ভুবন মণ্ডল ৩ লক্ষ ৯৭ হাজার টাকায় দোকান বসানোর বরাত পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন কমিটির সদস্যরা। এ বছর জিলিপির দাম কেজি প্রতি ১১০ টাকা। গত বছর দাম ছিল ১০০ টাকা। চিনি ও তেলের দাম বাড়ায় কমিটি এবার ১০ টাকা দাম বাড়িয়েছে। আতপ চালের গুঁড়ো ও বিউলির ডাল দিয়ে তৈরি এই জিলিপির চাহিদা বিপুল। গত বছর একশো কুইন্টালেরও বেশি জিলিপি বিক্রি হয়েছিল বলে উদ্যোক্তাদের দাবি। গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত চলে জিলিপি ভাজার কাজ। এই জিলিপির স্বাদ নিতে প্রতি বছর দূরদূরান্ত থেকে মানুষ হাড়দায় ভিড় জমান। (Hardar Lakshmi Puja)











