আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলেছিল পুজোর রীতি, মাটির ছোট লক্ষ্মী প্রতিমাতেই ঝুঁকেছিলেন অনেকে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে ফের বদলাচ্ছে ছবিটা। (Lakshmi Sora) কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আগে বাজারে বাড়ছে লক্ষ্মী সরার চাহিদা। ব্যবসায়ীদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এ বার অনেক বেশি সরা কিনছেন পুণ্যার্থীরা। আর তাতেই নতুন করে আশার আলো দেখছেন বাংলার প্রাচীন লোকশিল্পের সঙ্গে যুক্ত শিল্পী ও ব্যবসায়ীরা।
Table of Contents
Lakshmi Sora: ধর্মীয় আচারেই লুকিয়ে বাংলার জীবনদর্শন
লক্ষ্মীপুজোয় সরা ব্যবহারের রীতি শুধুমাত্র ধর্মীয় প্রথা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার কৃষিভিত্তিক সমাজের বিশ্বাস ও জীবনদর্শন। মাটির তৈরি সরা পৃথিবীর উর্বরতা, জীবন ও সৃষ্টির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। অনেক জায়গায় সরাকে গর্ভবতী নারীর প্রতীক হিসেবেও কল্পনা করা হয়। প্রাচীনকাল থেকেই বৈষ্ণব, শাক্ত ও শৈব সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে সরার ব্যবহার হয়ে আসছে।
Lakshmi Sora: লক্ষ্মীসরা থেকে ফুলসরা, রয়েছে নানা বৈচিত্র্য
লক্ষ্মীপুজোয় লক্ষ্মীসরা, ঢাকনাসরা, আমসরা ও ফুলসরার মতো বিভিন্ন ধরনের সরা ব্যবহৃত হয়। বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে সরার নকশা ও শিল্পরীতিতেও রয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। বিশেষ করে পূর্ববঙ্গের ঢাকা, বিক্রমপুর, ফরিদপুর ও মানিকগঞ্জে কুম্ভকারদের হাতে তৈরি দেবদেবীর ছবি আঁকা সরা একসময় ঘরে ঘরে পূজিত হতো। দেশভাগের পর উদ্বাস্তুদের হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গেও ছড়িয়ে পড়ে এই ঐতিহ্য।
Lakshmi Sora: ফরিদপুরী ও সুরেশ্বরি সরার চাহিদা বেশি
সরা ব্যবসায়ী প্রভাস চক্রবর্তী জানান, গত বছর অনেকেই সরা ছেড়ে ছোট লক্ষ্মী প্রতিমা কিনেছিলেন। তবে এ বছর ফের সরার দিকে ঝুঁকছেন ক্রেতারা। তাঁর কথায়, “সরা লক্ষ্মীপুজোর ঐতিহ্য। আগের বছরের তুলনায় এবার পুণ্যার্থীদের চাহিদায় বেশি সরা আনতে হয়েছে। ফরিদপুরী ও সুরেশ্বরি সরার চাহিদা বেশি।”
আধুনিকতার মাঝেও বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্যের প্রতি এই নতুন আগ্রহে খুশি সরা শিল্পী ও ব্যবসায়ীরা। তাঁদের আশা, এই চাহিদা বজায় থাকলে আগামী দিনেও বেঁচে থাকবে বাংলার লোকশিল্প ও ধর্মীয় সংস্কৃতির এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
অবশ্যই পড়ুন: কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় কোথায় আঁকবেন দেবীর পায়ের ছাপ? ভুল জায়গায় আলপনা দিলেই অমঙ্গল?












1 thought on “আধুনিকতার ভিড়ে পুরনো ঐতিহ্যে ভরসা, বাজারে বেড়েছে লক্ষ্মী সরার চাহিদা”
Comments are closed.