রুপোলি পর্দায় তাঁর সৌন্দর্য ও আভিজাত্য মুগ্ধ করত দর্শকদের। কিন্তু পর্দার বাইরের (Suchitra Sen) সুচিত্রা সেন ছিলেন সম্পূর্ণ অন্য মানুষ— সংসারী, স্নেহময়ী এবং ধর্মপ্রাণ। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় বালিগঞ্জের বাড়িতে মহানায়িকার নিজ হাতে পুজোর আয়োজন, আটপৌরে সাজে অতিথি আপ্যায়ন আর পরিবারের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের গল্প আজও বাঙালির মনে কৌতূহল জাগায়।
‘ম্যাডাম সেন’-এর আড়ালে অন্য সুচিত্রা
টলিউডে উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেন— দুই মহাতারকার বাড়ির লক্ষ্মীপুজো ঘিরেই থাকত বিশেষ আকর্ষণ। ইন্ডাস্ট্রির অনেকের কাছে (Suchitra Sen) সুচিত্রা ছিলেন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখা মানুষ। তবে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠদের কাছে তিনি ছিলেন স্নেহময়ী মা এবং আদর্শ গৃহিণী। বাড়ির অন্দরে আটপৌরে শাড়ি, মেকআপহীন সাদামাটা সাজেই স্বচ্ছন্দ ছিলেন মহানায়িকা।
Suchitra Sen: নিজের হাতে রান্না, অতিথি আপ্যায়ন
অতিথি আপ্যায়নে সুচিত্রার আন্তরিকতার কথা শোনা যায় টলিপাড়ায়। বাড়িতে অতিথি এলে নিজে হাতে রান্না করে খাওয়াতেন তিনি। বিশেষ করে তাঁর তৈরি নিরামিষ পদ ও সুস্বাদু চচ্চড়ির ছিল আলাদা কদর।
অবশ্যই পড়ুন: আধুনিকতার ভিড়ে পুরনো ঐতিহ্যে ভরসা, বাজারে বেড়েছে লক্ষ্মী সরার চাহিদা
লক্ষ্মীপুজোয় মা লক্ষ্মীর সাজে মহানায়িকা
সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্ত (Suchitra Sen) সুচিত্রা লক্ষ্মীপুজোর দিন সেজে উঠতেন বিশেষভাবে। পরনে থাকত লাল পাড় সাদা শাড়ি, সঙ্গে সোনার গয়না। শুধু নিজের সাজেই নয়, দেবী লক্ষ্মীর প্রতিমা সাজানোর দায়িত্বও তিনি নিতেন নিজের হাতে। সুন্দর শাড়ি ও সোনার গয়নায় সেজে উঠত প্রতিমা।
Suchitra Sen: উপোস, আলপনা থেকে গঙ্গায় বিসর্জন
পুজোর যাবতীয় আয়োজন সামলাতেন অভিনেত্রী নিজেই। সারা দিন উপোস করে ফল-সবজি কাটা থেকে শুরু করে পুজোর জোগাড়— সবেতেই থাকত তাঁর সক্রিয় ভূমিকা। মেয়ে মুনমুন সেনও ছিলেন মায়ের সহযোগী। ছোট থেকেই ছবি আঁকায় দক্ষ মুনমুনের দায়িত্ব ছিল বাড়ি জুড়ে নিখুঁত আলপনা আঁকা।
শোনা যায়, স্বপ্নে মা লক্ষ্মীকে দেখার পরেই নাকি নিজের বাড়িতে এই পুজো শুরু করেছিলেন সুচিত্রা। প্রতি বছর সেই পুজোয় যোগ দিতে টলিউডের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উত্তম কুমারের বাড়ি ঘুরে তাঁর বাড়িতে আসতেন, আবার কেউ কেউ উলটো পথেও যেতেন। পুজো শেষে বিশাল লক্ষ্মীপ্রতিমা নৌকায় করে গঙ্গায় বিসর্জন দেওয়ার সময় মহানায়িকাও ঘাটে উপস্থিত থাকতেন। ক্যামেরার ঝলকানি থেকে দূরে থাকা (Suchitra Sen) সুচিত্রার এই পারিবারিক পুজো তাঁর জীবনের এক অন্য অধ্যায়ের পরিচয় দেয়।










