নয়ডার শ্রমিক বিক্ষোভে পাকিস্তান যোগ ! এবার এমনই অভিযোগ সামনে এল। শ্রমিকদের বিক্ষোভ ঘিরে গতকাল সোমবার সকাল থেকে দৃশ্যত রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরি হয় নয়ডার ফেজ ২ এলাকায়। রাস্তা অবরোধ হয়। গাড়িতে ভাঙচুর হয়। অগ্নিসংযোগও হয় গাড়িতে। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাধে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের (Noida Workers’ Protest)। বিক্ষোভের জেরে বন্ধ হয়ে যায় দিল্লির সঙ্গে নয়ডার সংযোগকারী রাস্তা। কয়েক কিলোমিটার জুড়ে গাড়ির দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। আর এই কর্মী বিক্ষোভকেই পাক যোগ হিসাবে সন্দেহ করছেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৩০০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ জন্মেছিল। আর সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হয় সোমবার। শ্রমিক আন্দোলনের জেরে মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় নয়ডার ফেজ ২ এলাকায়। সোমবার মধ্যরাতে বৈঠ করেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। কমিটির সদস্য এবং শ্রমিক প্রতিনিধি সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই বৈঠকে যোগ দেয়।
বৈঠকে একগুচ্ছ দাবিদাওয়ার কথা জানান শ্রমিক প্রতিনিধিরা। সেগুলির মধ্যে রয়েছে , মাসিক বেতন ১০-১৫ থেকে বৃদ্ধি করে ১৮-২০ হাজার করা। সপ্তাহে নির্দিষ্ট একদিন ছুটি দেওয়া। অতিরিক্ত সময় কাজ করলে (ওভারটাইম) মজুরি বৃদ্ধি করা। এর পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে ভাল পরিবেশ, সম্মানের সঙ্গে কাজ করতে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিকেরা।
এই অশান্তির পর সোমবারই টুইট করে সতর্ক করেন আদিত্যনাথ। তিনি জানিয়ে দেন, আন্দোলন এবং প্রতিবাদের নামে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। একই সঙ্গে এ-ও দাবি করেন, সে রাজ্যের উন্নয়নকে থমকে দিতে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা চলছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার প্রথমে শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে (Noida Workers’ Protest) অবস্থান করলেও পরে হিংসাত্মক রূপ নেয়। একাধিক গাড়িতে আগ্নিসংযোগ হয়। বিভিন্ন জায়গায় পাথর ছোড়া ও ভঙচুর করা হয়। ফলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটাতে হয়। পুলিশের অতিরিক্ত বাহিনীও মোতায়েন করা হয়। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১০০ জনেরও বেশি জিজ্ঞসাবাদ করছে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে সিসিটিভি ফুটেজ।











