রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ অজানা তথ্য মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

Odisha Man’s Shocking Act: মৃত বোনের কঙ্কাল কাঁধে ব্যাঙ্কে হাজির ভাই, অসহায়তার মর্মান্তিক ছবি ওডিশায়

Published on: April 28, 2026
Odisha Man Shocking Act
---Advertisement---

মানুষ অসহায় হলে কত কিই না করে, ওডিশার এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এল এমনই এক ঘটনা। দারিদ্র্য, অশিক্ষা আর কঠোর নিয়মের জালে আটকে পড়ে এক ভাইয়ের অবাক করা কান্ডে হতবাক এলাকাবাসী। ব্যাপার কী?

ওডিশার কেনঝর জেলার এক গ্রামের বাসিন্দা জিতু মুন্ডা। তাঁর বোন কাকরা মুন্ডা প্রয়াত হয়েছেন দু’মাস আগেই। তবে মানুষের শোক ক্ষণস্থায়ী হলেও পেটের জ্বালা তো দীর্ঘস্থায়ী। তাই বোনের মৃত্যুর পর তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা থাকা ১৯ হাজার ৩০০ টাকাই ছিল অসহায় দাদার শেষ সম্বল। অবশিষ্ট সেই টাকা পাওয়ার আশাতেই ওডিশা গ্রামীণ ব্যাঙ্কে ছুটে গিয়েছিলেন জিতু। কিন্তু প্রতিবারই তাঁকে ফিরতে হয়েছে খালি হাতে। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের একটাই কথা—অ্যাকাউন্ট হোল্ডারকে নিজে উপস্থিত থাকতে হবে, অথবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। (Odisha Man’s Shocking Act)

একজন অশিক্ষিত, প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ যার কাছে এই জটিল কাগজপত্রের নিয়ম-কানুন প্রায় অজানা সে আর কতটাই বা বুঝবে! জিতু মুন্ডা বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে তার বোন আর বেঁচে নেই। কিন্তু সেই কথায় কর্ণপাত হয়নি বলেই অভিযোগ। দিনের পর দিন ঘুরে, অসহায়তার বোঝা বয়ে শেষে জিতু ঘটিয়ে বসল এক অবাক কাণ্ড, যা গোটা এলাকাকে স্তম্ভিত করে দেয়।

Manu Bhaker Controversy: অলিম্পিক পদকজয়ীকে মনুকে বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে প্রশ্ন, বিতর্ক সোশ্যাল মিডিয়ায়

চরম হতাশা আর ক্ষোভে শেষে মাটির নীচে কবর দেওয়া বোনের কঙ্কাল কাঁধে নিয়েই তপ্ত রোদে ৩ কিলোমিটার হেঁটে ব্যাঙ্কে হাজির জিতু। এই দৃশ্য দেখে শিউরে ওঠে আশপাশের মানুষ। হতবাক হয়ে যান ব্যাঙ্কের কর্মীরাও। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর দেওয়া হয় পুলিশে। ঘটনাটি সামনে আসতেই তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—একজন গরিব মানুষ বলেই কি নিজের পাওনা টাকা তুলতে এতটা অপমান আর যন্ত্রণা সহ্য করতে হবে? কেন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ নিজে থেকে গিয়ে যাচাই করার উদ্যোগ নিল না? অ্যাকাউন্ট হোল্ডার মৃত জানার পরেও কেন তাঁর দাদাকে এত হয়রানি সহ্য করতে হলো? (Odisha Man’s Shocking Act)

এই ঘটনা যেন আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, ব্যাঙ্ককিং সচেতনতা ও প্রশাসনিক সহানুভূতির দিক থেকে এখনও দেশের বহু প্রান্তে সাধারণ মানুষ কতটা পিছিয়ে আছে। নিয়মের বেড়াজালে আটকে পড়ে মানবিকতার জায়গা যে কতটা সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে, তারই এক মর্মান্তিক প্রতিচ্ছবি ধরা পড়ল কেনঝরের এই ঘটনা।


Trishita Roy

স্কুলে পড়াকালীনই সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহ এবং ভালোবাসা থেকে এই পেশায় আসা। সমাজের মানুষের কাছে যেকোনো ঘটনার নির্ভুলভাবে তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য। বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ উইমেন্স কলেজ ক্যালকাটা তে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন বিভাগে স্নাতক স্তরে পাঠরতা। বিনোদন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক এবং রাজনৈতিক প্রতিবেদন লেখায় বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। অবসর কাটে সিনেমা দেখে, গান শুনে এবং বই পড়ার মাধ্যমে।

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Subscribe Now

Leave a Comment