দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে অভিনেতা-রাজনীতিক সি জোসেফ বিজয়ের হাত ধরে। তামিলনাড়ুর ১৩ তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার দিনই তাঁর নেতৃত্বাধীন টিভিকে সরকারের মন্ত্রিসভায় শপথ নিলেন তরুণ নেত্রী এস কীর্তনা (S Keerthana)। আর সেই মুহূর্ত থেকেই রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি চর্চিত নাম হয়ে উঠেছেন তিনি। (S Keerthana) মাত্র ২৯ বছর বয়সে তিনি শুধু মন্ত্রীই নন, বিজয়ের ক্যাবিনেটের সবচেয়ে কমবয়সি সদস্য এবং একমাত্র মহিলা মুখ।
চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে আয়োজিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বিজয়ের সঙ্গে আরও নয়জন মন্ত্রী শপথ নেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কীর্তনা (S Keerthana)। নবগঠিত মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়া নয়জন মন্ত্রীর মধ্যে এন আনন্দ, আধব অর্জুন, কে এ সেনগোট্টাইয়ান, পি ভেঙ্কটরমণন, আর নির্মলকুমার, রাজমোহন, টি কে প্রভু এবং কে জি অনুরাজের সঙ্গে শপথ গ্রহণ করেন। শপথের পরই আত্মবিশ্বাসী সুরে তিনি জানান, “এমন সুযোগ অন্য কোনও রাজনৈতিক দল হয়তো দিত না। আমরা দেখিয়ে দেব কীভাবে দক্ষতার সঙ্গে সরকার চালানো যায়।”
“আমি দেবদূত নই, সাধারণ মানুষ”, মুখ্যমন্ত্রী হয়েই আবেগঘন বার্তা বিজয়ের: S Keerthana: মাত্র ২৯-এই বাজিমাত, বিজয়ের মন্ত্রিসভায় ইতিহাস গড়লেন কীর্তনাকে এই (S Keerthana) এস কীর্তনা ?
তামিলনাড়ুর বিরুধুনগর জেলার শিবকাশী কেন্দ্র থেকে প্রথমবারের জন্য বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন কীর্তনা। আতসবাজি শিল্পের জন্য পরিচিত শিবকাশীকে ‘ফায়ারওয়ার্কস ক্যাপিটাল অফ ইন্ডিয়া’ বলা হয়। সেই কেন্দ্র থেকেই ইতিহাস গড়ে প্রথম মহিলা বিধায়ক হয়েছেন তিনি (S Keerthana)। প্রায় ৭০ বছরের পুরুষ-প্রাধান্য ভেঙে তাঁর এই জয় রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
নির্বাচনে তিনি প্রায় ১১ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হন। তবে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুধুই ভোটের রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়। রাজনীতিতে সরাসরি আসার আগে তিনি রাজনৈতিক কনসালট্যান্ট এবং ডিজিটাল ক্যাম্পেইন স্ট্র্যাটেজিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।
কীর্তনার উত্থানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা। তামিল মাধ্যম সরকারি স্কুলে পড়াশোনা করার পর গণিতে স্নাতক এবং পরবর্তীতে স্ট্যাটিস্টিক্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডেটা-ভিত্তিক রাজনৈতিক বোঝাপড়া এবং সাংগঠনিক দক্ষতাই তাঁকে দ্রুত নেতৃত্বের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
(S Keerthana) তাঁর বহুভাষী দক্ষতাও এখন জাতীয় স্তরে আলোচনার বিষয়। তামিল, ইংরেজি, তেলুগুর পাশাপাশি সাবলীল হিন্দি বলতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। সম্প্রতি জাতীয় সংবাদমাধ্যমের সামনে হিন্দিতে কথা বলে তিনি চর্চার কেন্দ্রে চলে আসেন। যদিও তামিলনাড়ুতে ভাষা রাজনীতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়, তবু কীর্তনার বক্তব্য ছিল স্পষ্ট। দলের বার্তা গোটা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই তিনি হিন্দি ব্যবহার করেছেন।
টিভিকে সরকারের ‘নতুন প্রজন্মের মুখ’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে কীর্তনাকে (S Keerthana)। যুব সমাজ, মহিলা নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং আতসবাজি শিল্পের শ্রমিকদের কল্যাণ — এই বিষয়গুলিকে সামনে রেখে তিনি প্রচার চালিয়েছিলেন। বিশেষ করে শিবকাশীর আতসবাজি কারখানার শ্রমিকদের স্বাস্থ্য বিমা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং মহিলা কর্মীদের সমান বেতনের দাবিতে তিনি সরব ছিলেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এস কীর্তনাকে সামনে এনে বিজয় একদিকে যেমন নারী প্রতিনিধিত্বের বার্তা দিয়েছেন, তেমনই শিক্ষিত ও তরুণ নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। তামিল রাজনীতির প্রচলিত ধারা ভেঙে টিভিকে যে নতুন ধরনের প্রশাসনিক মডেল গড়তে চাইছে, আগামী দিনে এস কীর্তনা তার অন্যতম মুখ হয়ে উঠতে পারেন।
তামিলনাড়ুতে ‘বিজয়-রাজ’, ‘বিনামূল্যে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ’ শপথের পর ঘোষণা বিজয়ের: S Keerthana: মাত্র ২৯-এই বাজিমাত, বিজয়ের মন্ত্রিসভায় ইতিহাস গড়লেন কীর্তনা











