কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর দেশ জুড়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি এবার মুখ খুললেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্বেতা তিওয়ারি। নিজের Instagram স্টোরিতে তিনি CJP নেতা অভিজিৎ দিপকের একটি ভিডিয়ো শেয়ার করে পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। (Shweta Tiwari)
কী বললেন শ্বেতা?
অভিজিৎ দিপকের শেয়ার করা ভিডিয়োতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করায় এখন মন্ত্রিসভার অন্য কোনও মন্ত্রীও যদি কাজের ক্ষেত্রে ব্যর্থ হন, তাহলে তাঁদের পদত্যাগও দাবি করা যেতে পারে। সেই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় শ্বেতা তিওয়ারি Instagram-এ লেখেন, “এবার পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রী কবে ইস্তফা দিচ্ছেন? আর সেখানে গিয়ে কবে আন্দোলন করবে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)?” তাঁর এই মন্তব্য দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। (Shweta Tiwari)

শ্বেতা কেন বললেন শিক্ষামন্ত্রী হরজোত সিং বেইনসের ইস্তফার কথা?
বর্তমানে একাধিক নিয়োগ পরীক্ষা ও প্রশ্নফাঁসের বিতর্কে জড়িয়েছে তাঁর নাম। বিশেষ করে বাবা ফরিদ ইউনিভার্সিটি পরিচালিত একটি নিয়োগ পরীক্ষায় স্মার্ট পেন ক্যামেরা ব্যবহার করে নকল করা ধরা পড়ার পর বিরোধীদের আন্দোলন আরও জোরদার হয়েছে। তাঁদের দাবি, জাতীয় স্তরে NEET-UG বিতর্কে ধর্মেন্দ্র প্রধান যেমন নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন, তেমনই পাঞ্জাবেও শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মের দায় নিয়ে হরজোত সিং বেইনসের পদত্যাগ করা উচিত। (Shweta Tiwari)
কেন পদত্যাগ করলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান?
শনিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্রছাত্রীদের লাগাতার আন্দোলন চলছিল। অভিযোগ ছিল, বিশেষ করে NEET-UG পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস-সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর দায় রয়েছে। সেই কারণেই তাঁর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন ক্রমশ জোরদার হয়।
আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে যন্তর মন্তর
২০ জুলাই যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের উপর দিল্লি পুলিশের কড়া পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। এরপর শুধু দিল্লি নয়, দেশের বিভিন্ন মহানগর এবং ছোট শহরেও প্রতিবাদের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়ে বহু সাধারণ মানুষও আন্দোলনে যোগ দেন। (Shweta Tiwari)
এর আগে, ১৮ জুলাই গভীর রাতে আন্দোলনস্থল থেকে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে দিল্লি পুলিশ সরিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়। টানা ২১ দিন ধরে অনশন চালানোর ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশ মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে জানানো হয়। NEET পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতেই অনশনে বসেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। তাঁর অনশন এবং ছাত্রদের আন্দোলন শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে, যার পরিণতিতেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
আরও পড়ুন :- ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফায় উচ্ছ্বসিত প্রকাশ রাজ সহ তারকারা, সোনম ওয়াংচুক-সহ আন্দোলনকারীদের অভিনন্দন










