নির্বাচন কমিশনের জন্য এক বড় স্বস্তির খবর। সুপ্রিম কোর্ট বুধবার ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে আইনগতভাবে বৈধ বলে রায় দিয়েছে। আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে যে, এই প্রক্রিয়াটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সাংবিধানিক আবশ্যকতাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এই রায়টি এমন এক সময়ে এল, যখন ৩০ মে থেকে ১৬টি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে SIR-এর তৃতীয় ও চূড়ান্ত পর্যায় শুরু হতে চলেছে। এই পর্যায়ে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকার নতুন করে যাচাই ও সংশোধনের কাজ সম্পন্ন করবে। (Supreme Court Support SIR)
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচিকে নিয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ খতিয়ে দেখেছে যে, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২৬, ‘জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০’ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধানের আওতায় নির্বাচন কমিশনের (EC) বর্তমান রূপে এই সংশোধন প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করার ক্ষমতা রয়েছে কি না। রায় ঘোষণার সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমরা এ বিষয়েও পূর্ণ সন্তুষ্ট যে, SIR-এর মাধ্যমে যে উদ্দেশ্য সাধনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে, তার সঙ্গে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সাংবিধানিক লক্ষ্যের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে।” (Supreme Court Support SIR)
বিহারে প্রথম এবং পরবর্তীতে অন্যান্য রাজ্যে হওয়া ভোটার তালিকায় এই সংশোধন প্রক্রিয়াটিকে বহাল রেখে আদালত আরও জানায়, “এই SIR প্রক্রিয়াটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাকে কোনওভাবেই ক্ষুণ্ণ করে না।” বেঞ্চ আরও জানায় যে SIR প্রক্রিয়াটি বিদ্যমান নির্বাচনী আইনগুলোকে অতিক্রম বা বাতিল করে না। আদালতের কথায়, “বরং, এটি আইনের ধারা ২১(৩)-এর সুনির্দিষ্ট বিধিবদ্ধ সীমানার মধ্যে থেকেই সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২৪-এর নির্দেশকে নতুন প্রাণসঞ্চার করে।” আদালত আরও যোগ করে, “সুতরাং, এমনটা বলা যাবে না যে কমিশন তার বিধিবদ্ধ ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে কোনও কাজ করেছে।” শীর্ষ আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে, শুধুমাত্র সাধারণ সংশোধন প্রক্রিয়ার চেয়ে এর কার্যপদ্ধতি ভিন্ন হওয়ার কারণে এই বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়াটিকে বাতিল করা সম্ভব নয়।(Supreme Court Support SIR)
এই রায়টি বিরোধী দলগুলোর জন্য একটি ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ বিরোধী দলগুলো এই সংশোধন প্রক্রিয়ার সময়কাল এবং ভোটার তালিকা থেকে ভুলবশত নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় এর তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল।SIR প্রক্রিয়াটি সর্বপ্রথম জুন ২০২৫ সালে বিহারে চালু করা হয়েছিল—যা ছিল ওই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক পাঁচ মাস আগে। এই সংশোধন প্রক্রিয়ার ফলে ভোটার তালিকা থেকে মৃত ভোটারদের নাম-সহ মোট ৬০ লক্ষেরও বেশি নাম বাদ পড়েছিল। একইভাবে, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯০ লক্ষ নাম মুছে ফেলা হয়েছিল।
এই সংশোধন প্রক্রিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, যেসব ভোটারের নাম ২০০২ বা ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না, তাঁদের এমন সব নথিপত্র বা প্রমাণাদি পেশ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে তাঁরা ওই পুরনো ভোটার তালিকায় নাম থাকা কোনও ব্যক্তির সঙ্গে নিজেদের সংযোগ বা সম্পর্ক প্রমাণ করতে পারেন। প্রাথমিকভাবে, নির্বাচন কমিশন যাচাইের জন্য ১১টি নথিপত্রকে স্বীকৃতি দিয়েছিল এবং আধারকে এর আওতা থেকে বাদ রেখেছিল। জনসাধারণের জন্য স্বস্তির বিষয় হল সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয় যেন আধারকেও গ্রহণযোগ্য নথিপত্রের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।(Supreme Court Support SIR)
ভোটারদের ভোটাধিকার খর্ব করা এবং পক্ষপাতিত্বের বিষয়ে বিরোধীদের অভিযোগ সত্ত্বেও, নির্বাচন কমিশন ধারাবাহিকভাবে এই প্রক্রিয়াটিকে একটি সাংবিধানিকভাবে বাধ্যতামূলক যাচাইকরণ অভিযান হিসেবেই সমর্থন করে গেছে—যার মূল লক্ষ্য হল ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং অনাগরিকদের ভোটদান থেকে বিরত রাখা।












2 thoughts on “SIR প্রক্রিয়াকে বৈধতা দিল সুপ্রিম কোর্ট, নির্বাচন কমিশনের বড় স্বস্তি”