১৯ বছর পরে কলকাতা ফিরলেন বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। ২০০৭ সালে তাঁর বই ‘দ্বিখণ্ডিত’ নিয়ে হওয়া প্রতিবাদের জেরে তিনি শহর ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। তিনি আগামী ১ আগস্ট কলকাতায় একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং প্রখ্যাত সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়েরও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। কলকাতায় পৌঁছে তসলিমা নাসরিন বলেন, তাঁর কাছে এটি শুধু একটি শহর নয়, বরং ঘরে ফেরা। তিনি বলেন, “আমার মনে হচ্ছে যেন আমি নিজের দেশে ফিরছি। আমার হৃদয়ে বাংলা কখনও বিভক্ত ছিল না। আমি অতিথি হিসেবে নয়, বাংলারই অংশ হিসেবে ফিরেছি।” (Taslima Nasrin)
২০০৭ সালের নির্বাসনের স্মৃতি
তসলিমা গতকাল জানান যে, তিনি ২০০৭ সালে নিজের ইচ্ছায় কলকাতা ছাড়েননি, বরং তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে রাজ্য ছাড়তে বাধ্য করেছিল। তিনি বলেন, “আমি কখনও আশা ছাড়িনি যে একদিন আমি ফিরব। সরকার বদলাতে থাকল, কিন্তু আমার জন্য দরজা বন্ধই রইল।” তসলিমা তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে শুধু ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন হিসেবেই নয়, বরং মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিজয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “আমার উপস্থিতি এই বার্তা দেয় যে, হুমকি ও ফতোয়া একজন লেখককে সাময়িকভাবে নির্বাসিত করতে পারে, কিন্তু তাঁর ভাবনাকে নির্মূল করতে পারে না।”(Taslima Nasrin)
মত প্রকাশের স্বাধীনতার বার্তা
তসলিমা নাসরিন বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং অনুষ্ঠানের আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন যে, তাঁকে নিরাপত্তা ও একটি মঞ্চ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধারই একটি নিদর্শন। তিনি আরও বলেন যে, একজন লেখকের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা কোনও সরকার, রাজনৈতিক দল বা ধর্মীয় গোষ্ঠীর দয়ার উপর নির্ভর করা উচিত নয়, বরং তা তাঁর মৌলিক অধিকারের উপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত। তসলিমা আশা প্রকাশ করেন যে, কলকাতায় তাঁর এই সফর যেন এককালীন না হয় এবং ভবিষ্যতে তিনি যখনই চাইবেন, তখনই এই শহরে আসতে পারবেন। (Taslima Nasrin)
আরও পড়ুন :- রাজ্যে বিজেপি বিরোধিতার পরিসর কারা দখল করবে?









2 thoughts on “১৯ বছর পরে কলকাতা ফিরলেন বাংলাদেশের লেখিকা তসলিমা নাসরিন”