রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

রাজ্যে বিজেপি বিরোধিতার পরিসর কারা দখল করবে?

Published on: July 31, 2026
---Advertisement---

দেবাশিস দাশগুপ্ত

জেন জির আন্দোলন, কেন্দ্রের নতি স্বীকার

জেন জির জেদের কাছে হার মেনেছে মোদি সরকারের জেদ। দেশ জুড়ে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনের জেরে ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আন্দোলনরত তরুণদের বাকি দুটি দাবিও মেনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। আন্দোলনের মূল উদ্যোক্তা ককরোচ জনতা পার্টি মনে করছে, এটা তাদের জয়। তারা বলে দিয়েছে, এই সবে শুরু, আন্দোলন চলবে। আমাদের চাপেই মোদি সরকার ঝুঁকেছে। আরও ঝুঁকতে হবে। তবে ককরোচ জনতা পার্টি যাই বলুক, এই আন্দোলনে বিভিন্ন বাম ছাত্র সংগঠনের অবদানও কম নয়। এসএফআই, এআইএসএফ, আইসার মতো ছাত্র সংগঠন সক্রিয়ভাবে অংশগ্ৰহণ করেছে। তার উপর ভরসা করেই বাম ছাত্র সংগঠনগুলি ২৪ জুলাই কলকাতায় মহামিছিলের ডাক দিয়েছিল। বিভিন্ন সময়ে যে এসইউসি বামফ্রন্টের বিরোধিতা করে, তাদের ছাত্র সংগঠন, কিছু অতিবাম ছাত্র সংগঠনও এই মহামিছিলে শামিল হয়। ধারে ভারে বহরে সেই মিছিল বেশ তাক লাগানোই ছিল, এটা অস্বীকার করে লাভ নেই। মিছিলে অনেক সাধারণ ছাত্রছাত্রী, সাধারণ মানুষও যোগ দেন, যাঁরা কোনও রাজনৈতিক দল বা গণ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন। ধর্মতলায় সেই মিছিল থেকেই সাংবাদিকদের উপর হামলা হয় বলে অভিযোগ। যদিও উদ্যোক্তারা দাবি করছেন, বিজেপির লোকজন মিছিলে ঢুকে পড়ে হামলা করেছে বামেদের বদনাম করবে বলে। তাঁরা এই দাবির সমর্থনে বেশ কিছু ভিডিয়ো বাজারে ছেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, ওই হামলা এবং মিছিলে বিদেশি শক্তির মদত ছিল। বিজেপি সরকারের পুলিশ হামলার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করেছে। (West Bengal Political News)

বামেদের নতুন অক্সিজেন, কিন্তু বাস্তব কতটা বদলাবে?

যাই হোক, ওই মহামিছিলের কলেবর দেখে বাম ছাত্র নেতারা উল্লসিত হতেই পারেন। সেটা তাঁদের ব্যাপার। নিট দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা ইত্যাদি এই রাজ্যে বামেদের কতটা অক্সিজেন যোগাবে, সেটা ভবিষ্যৎ বলবে। গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূল জমানা চলেছে। তার বিরুদ্ধে বামেরা কিছুই করতে পারেনি। এই দীর্ঘ দেড় দশকের মধ্যে তারা যে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি, সাম্প্রতিক বিধানসভা ভোটের ফল তা বুঝিয়ে দিয়েছে। তাদের ভোট প্রাপ্তি ৫ শতাংশও ছুঁতে পারেনি। (West Bengal Political News)

কংগ্রেসের সক্রিয়তা, তৃণমূলের নিষ্ক্রিয়তা

এরকম একটা পরিস্থিতিতে দেখলাম, রাজ্য কংগ্রেসও বেশ কিছুটা নড়েচড়ে বসেছে। নিট ইস্যুতে, সাংবাদিক নিগ্ৰহের প্রতিবাদে তারা রাস্তায় নেমেছে। কিন্তু দুর্বিষহ অবস্থা ভঙ্গ তৃণমূলের। এককালের আগুনখেকো বিরোধী নেত্রী এবং সদ্য পরাজিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগটুকু নিতে পারলেন না। বিজেপির বিরুদ্ধে রাস্তায় নামার একটি সুবর্ণ সুযোগ ছিল মমতার সামনে। আমরা কী দেখলাম? পরের দিন কালীঘাট তৃণমূল একটা লোক হাসানো নাটক করল। মমতা উপাসনা চৌধুরী নামে উঠতি এক নেত্রীর স্কুটিতে হেলমেট ছাড়া চেপে লালবাজার যাওয়ার চেষ্টা করলেন। দোলা সেন, ডেরেক ও’ব্রায়েনরা আবার লালবাজারের সামনে বসে পড়লেন গুটি কয়েক সমর্থক নিয়ে। আর ঋতব্রতপন্থী বা বলা ভালো, বিজেপিপন্থী ভালো তৃণমূলদের তো কোনও ভূমিকাই নেই নিট ইস্যুতে। বরং তারা ব্যস্ত হয়ে পড়ল সাংবাদিক নিগ্রহ নিয়ে। ঋতব্রত বাণী দিলেন, বামেদের মহামিছিল থেকে গুন্ডামি করা হয়েছে। তিনি এবং তাঁর ভালো তৃণমূলের লোকজন বিজেপি সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে পড়লেন নির্লজ্জের মতো। বিধানসভা অধিবেশনেও দেখলাম, বিজেপিপন্থী তৃণমূলের বিধায়করা মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্য মন্ত্রীদের ঢালাও প্রশংসা করছেন। (West Bengal Political News)

দিল্লি পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর রাজনৈতিক প্রশ্ন

এরই মধ্যে আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করে বসলেন, সোমবার তিনি যন্তর মন্তরে যাবেন ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে শামিল হতে। মমতা ভেবেছিলেন, দিল্লিতে তাঁর একটু দর বাড়বে। কিন্তু সেটাও হল না। ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দেওয়ায় সিজেপি অবস্থান বিক্ষোভ তুলে নিল শনিবার সন্ধ্যায়। মমতার আর দিল্লি যাওয়া হলো না। এদিকে তাঁর অনুগামী কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখলেন, মমতার ভয়েই নাকি প্রধান ইস্তফা দিলেন। কেউ লিখলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও আগে দিল্লিতে গেলে তখনই নাকি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। এই নেতা, নেত্রীরা এটুকু বুঝলেন না যে, এতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও হাসির খোরাক হয়ে গেলেন। (West Bengal Political News)

এখন নজর বিজেপি বিরোধী রাজনীতির নতুন সমীকরণে

এখন দেখার, রাজ্যে বিজেপি বিরোধিতার পরিসর কারা দখল করতে পারে, কালীঘাট তৃণমূল না বামেরা নাকি কংগ্রেস? (West Bengal Political News)

আরও পড়ুন :- আরও অপেক্ষা! ২০২৭-এর আগে খুলছে না কবি সুভাষ মেট্রো, জানালেন কর্তৃপক্ষ


Ranita Saha

নতুন নতুন বিষয় জানার ইচ্ছে থেকেই সাংবাদিকতার পেশায় আসা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতার স্নাতকোত্তরের ছাত্রী। কলেজ জীবন থেকে বিভিন্ন পত্রপত্রিকার লেখালেখি শুরু। বাংলা, ইংরেজির পাশাপাশি হিন্দিতেও স্বচ্ছন্দ। রাজনীতি ছাড়াও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক এবং বিনোদন সংক্রান্ত খবর লিখতে ভালো লাগে। অবসর সময়ে বই একমাত্র বন্ধু। পড়ালেখার পাশাপাশি গান, নাচ এবং আঁকা ভালোবাসার বিষয়।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

1 thought on “রাজ্যে বিজেপি বিরোধিতার পরিসর কারা দখল করবে?”

Leave a Comment