দিল্লির লালকেল্লায় গাড়ি বিস্ফোরণ মামলার তদন্তে উঠে এল বিস্ফোরক তথ্য। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা NIA-র দাবি, আল-কায়দার সঙ্গে যুক্ত একটি জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্ল্যাটফর্মকে “টেরর ইঞ্জিনিয়ারিং”-এর কাজে ব্যবহার করছিল। তদন্তে জানা গিয়েছে, বিস্ফোরক তৈরির পদ্ধতি জানতেও ইউটিউবের পাশাপাশি চ্যাটজিপিটিরও সাহায্য নিয়েছিল অভিযুক্তরা।
গত বছরের ১০ নভেম্বর লালকেল্লার কাছে ঘটেছিল ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণ। তার ফলে ১১ জনের মৃত্যু হয় এবং বহু মানুষ আহতও হন। ইতিমধ্যে এই মামলায় NIA আদালতে ৭,৫০০ পাতার বিশাল চার্জশিটও জমা দিয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, গোটা হামলার পরিকল্পনা এবং বিস্ফোরক তৈরির প্রক্রিয়া দেখে মনে হয় যেন কোনও পাকা হাতের কাজ। তবে তদন্ত এগোতেই উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। (Terror Attack Using AI)
সংস্থার চার্জশিটে অভিযুক্তের তালিকায় যার নাম প্রথমেই উঠে এসেছে তিনি হলেন জাসির বিলাল ওয়ানি। NIA জানিয়েছে, এই জাসিরই ছিল জঙ্গি চক্রের “ইন-হাউস ইঞ্জিনিয়ার”। এই জঙ্গি সংগঠনের যোগ রয়েছে আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ বা এজিইউএইচ-এর সঙ্গে, যেটি আল-কায়দা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (AQIS)-এর একটি শাখা, এমনটাই দাবি তদন্তকারীদের। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ইতিমধ্যেই এই সংগঠন ও তার শাখাগুলিকে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ২০২৪-২৫ সালে একাধিকবার হরিয়ানার ফরিদাবাদের আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থেকেছিলেন জাসির। সেখানে থেকেই নাকি বিস্ফোরণের ষড়যন্ত্রে প্রযুক্তিগত সহায়তা করত সে। এই একই বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত তিনজন এর বিরুদ্ধেও বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
NIA-র দাবি, ডা. আদিল আহমেদ রাদার নামে এক অভিযুক্তের মাধ্যমে জাসিরের পরিচয় হয় ডা. উমের-উন-নবির সঙ্গে। উমেরকেই বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ির চালক বলে চিহ্নিত করেছে তদন্তকারী সংস্থা। অভিযোগ, আদিল বিস্ফোরক তৈরির উপাদান হিসাবে গুঁড়ো চিনি এবং এনপিকে সার আকারে পটাশিয়াম নাইট্রেট জোগাড় করে দিতেন। অন্যদিকে, ডা. উমের রকেট আইইডি নিয়ে গবেষণা করতেন এবং জাসিরকে বিভিন্ন নির্দেশ দিতেন। (Terror Attack Using AI)
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, জাসির ইউটিউব ও চ্যাটজিপিটিতে সার্চ করেছিল— “কীভাবে রকেট বানানো যায় এবং কোন উপাদান কত অনুপাতে মেশাতে হবে।” তদন্তকারী সংস্থার দাবি এই তথ্য থেকেই প্রমাণ হয়, কীভাবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও এআই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে এই জঙ্গিরা ষড়যন্ত্রের ছক কষছিল।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, জাসির ও তার সহযোগীরা জম্মু-কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার কাজিগুন্ড জঙ্গলে রকেট আইইডি তৈরি করে তার পরীক্ষাও চালিয়েছিল। সেই পরীক্ষায় ডা. উমের, ডা. মুজাম্মিল শেখিল-সহ আরও কয়েকজন অভিযুক্ত উপস্থিত ছিল বলে দাবি এনআইএ-র। পরে জাসিরের দেখানো জায়গা থেকে জঙ্গলের গভীর এলাকা থেকে বিস্ফোরকের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করে তদন্তকারী দল।
ফলতায় রেকর্ড ভোটে জয় BJP-র, ‘তৃণমূলের হার-বার মডেল’, বিঁধলেন শুভেন্দু
শুধু তাই নয়, তদন্তে জানা গিয়েছে ডা. উমের জাসিরকে দু’টি ড্রোনও দিয়েছিলেন। সেই ড্রোনগুলির ওড়ার ক্ষমতা এবং বিস্ফোরক বহনের ক্ষমতা বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল তাকে। এনআইএ-র দাবি, নিরাপত্তা শিবির এবং দেশের বিভিন্ন জায়গায় হামলার উদ্দেশ্যে এই ড্রোনগুলিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল ওই জঙ্গি সংগঠনের।
এছাড়াও, অনন্তনাগের ম্যাটনের কাছে ইউশমুর্গ জঙ্গলে সিলিন্ডার-ভিত্তিক আইইডির পরীক্ষাও চালানো হয়েছিল বলে চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে। তদন্ত চলাকালীন এনআইএ একটি পরীক্ষামূলক অভিযান চালায়। সেখানে বোম স্কোয়াডের বিশেষজ্ঞদের সামনে জাসির দেখায়, কীভাবে সাধারণ বাজারে পাওয়া সামগ্রী ব্যবহার করে রকেট আইইডি তৈরি করত সে। (Terror Attack Using AI)
সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়ির ট্রিগার মেকানিজম নিয়ে। তদন্তে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারির মধ্যে জাসির নিজের ফ্লিপকার্ট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে একাধিক যন্ত্রাংশ কিনেছিল। এর মধ্যে ছিল সেন্সর-ইনডাকটিভ প্রক্সিমিটি সুইচ, হিট গান, পাইজো প্লেট, রিমোট কন্ট্রোল রিলে সুইচ, আরএফ ট্রান্সমিটার ও রিসিভার কিট, রিচার্জেবল লাইটার, সোল্ডারিং কিট এবং এলইডি ইলেকট্রনিক কিট। অভিযোগ, এই সব কেনাকাটার টাকা জোগাড় করেছিলেন ডা. উমের এবং ক্যাশ অন ডেলিভারির মাধ্যমে জিনিসগুলি পৌঁছয় জাসিরের কাছে। পরে সেই সব যন্ত্রাংশ জুড়ে বিস্ফোরকের ট্রিগার ব্যবস্থা তৈরি করা হয়।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই গোটা চক্রটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে প্রযুক্তি, এআই এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে জঙ্গি হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এই ঘটনার পেছনে আরোও কাদের হাত রয়েছে সে বিষয়ে খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তবে তদন্ত উঠে আসা এইসব বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পরই দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়েও দেশজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। (Terror Attack Using AI)









