প্রথমেই বলে রাখা ভাল, পরিমিত কফি শরীরের ক্ষতি করে না (coffee)। বরং বেশ কিছু উপকারই করে। তবে একই সঙ্গে এও জেনে রাখা উচিত যে, কফিতে আছে ক্যাফিন। যা প্রাকৃতিক ভাবেই উদ্দিপকের কাজ করে। শরীরে গিয়ে সরাসরি প্রভাবিত করে হরমোনকে। যার ফলে মুহূর্তে চনমনে হয় মেজাজ। কর্মক্ষেত্রে দুপুরের দিকে প্রায়ই চোখ ভারী হয়ে আসে৷ এমন পরিস্থিতিতে অধিকাংশ মানুষই সহজাত অভ্যাসবশত বারবার কফি বানিয়ে খান। এখন প্রশ্ন হলো এই কফি কী নিরাপদ?
সুস্থ প্রাপ্তবয়স্করা দিনে ক’কাপ পান করবেন
প্রথমেই বলে রাখা ভাল, পরিমিত কফি (coffee) শরীরের ক্ষতি করে না। বরং বেশ কিছু উপকারই করে। তবে একই সঙ্গে এও জেনে রাখা উচিত যে, কফিতে আছে ক্যাফিন। যা প্রাকৃতিক ভাবেই উদ্দিপকের কাজ করে। শরীরে গিয়ে সরাসরি প্রভাবিত করে হরমোনকে। যার ফলে মুহূর্তে চনমনে হয় মেজাজ। কর্মক্ষেত্রে দুপুরের দিকে প্রায়ই চোখ ভারী হয়ে আসে৷ এমন পরিস্থিতিতে অধিকাংশ মানুষই সহজাত অভ্যাসবশত বারবার কফি বানিয়ে খান। এখন প্রশ্ন হলো এই কফি কী নিরাপদ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের জন্য দিনে ৩ থেকে ৫ কাপ (সর্বোচ্চ ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন) কফি পান করা সম্পূর্ণ নিরাপদ।
কফি পানের প্রধান স্বাস্থ্য উপকারিতা :
হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস: গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনিক ৩-৫ কাপ কফি স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক এবং হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
ব্ল্যাক কফি নিয়মিত পান করলে শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত হয় এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে।
লিভারের সুরক্ষা: একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনিক কফি পানের অভ্যাস লিভার সিরোসিস এবং লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়।
মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা: এটি মনোযোগ ও সতর্কতা বাড়ানোর পাশাপাশি ডিমেনশিয়া বা আলঝেইমারের মতো মানসিক অবক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি কমায়।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা :
অতিরিক্ত চিনি ও ক্রিমের ব্যবহার: কফিতে অতিরিক্ত চিনি, ফ্লেভারড সিরাপ বা হাই-ফ্যাট ক্রিম মেশালে কফির আসল স্বাস্থ্যগুণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
গর্ভবতী মহিলাদের জন্য নিয়ম: গর্ভবতী মায়েদের দৈনিক ক্যাফেইন গ্রহণের পরিমাণ ২০০ মিলিগ্রামের (প্রায় ২ কাপ) মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত।
ব্যক্তিগত সহনশীলতা: সকলের শরীর ক্যাফেইন একইভাবে গ্রহণ করতে পারে না। অতিরিক্ত কফি পানের কারণে কারও কারও ঘুম না হওয়া, বুক ধড়ফড় করা ও মানসিক দুশ্চিন্তা (Anxiety) দেখা দিতে পারে।
আপনি কী করবেন?
১। দিনে চার কাপ কফি খাওয়াই যায়। তাতে বরং উপকারই বেশি। তবে খালি পেটে প্রথমেই কফি খেতে নিষেধ করেন পুষ্টিবিদেরা। তাই কফির সঙ্গে হালকা কিছু খান।
২। চিনি দিয়ে কফি খেলে উপকারের ভাগ অনেকটাই কমে, তাই বেশি কফি খেলে চিনি বর্জন করুন।
৩। দিনে চার কাপ কফি খাওয়ার পরে যদি দেখেন ঘুমের সমস্যা হচ্ছে, তবে পরিমাণ কমান।
৪। ঘুমোনোর আগে অন্তত ৬-৭ ঘণ্টা কফি না খাওয়াই ভাল, বলেন পুষ্টিবিদদের একাংশ।
আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানাচ্ছে প্রতিদিন শরীরে ৪০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যাফিন যাওয়া উচিত নয়। যার অর্থ সারা দিনে শুধু চার বা পাঁচ কাপ কফি খাওয়া যেতে পারে। তবে কফি কে খাচ্ছেন, তাঁর শরীর কতটা ক্যাফিন নিতে পারছে, তার উপরও বিষয়টি নির্ভর করবে। এমনও হতে পারে কারও নিয়মিত পাঁচ কাপ কফি খেয়েও কোনও সমস্যা হল না। আবার কারও ক্ষেত্রে নিয়মিত তিন কাপ কফি খেয়েও ক্যাফিনের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ল শরীরে।












