চাবি কোথায় রেখেছেন, পরিচিত কারও নাম হঠাৎ মনে না পড়া কিংবা কোনও ঘরে গিয়ে কেন গিয়েছিলেন তা ভুলে যাওয়া- এ ধরনের ঘটনা অনেকেরই হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ভুলে যাওয়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক। তবে যদি এই সমস্যা ঘন ঘন হতে শুরু করে এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে প্রভাব ফেলে, তাহলে তা মস্তিষ্কের গুরুতর সমস্যার লক্ষণও হতে পারে। বিশ্ব মস্তিষ্ক দিবস উপলক্ষে এমনই সতর্কবার্তা দিয়েছেন ডা. বিশাল জৈন, শারদাকেয়ার-হেলথসিটির সিনিয়র কনসালট্যান্ট (নিউরোলজি)।
Forgetfulness: কোন ভুলে যাওয়াগুলি স্বাভাবিক?
ডা. জৈনের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু কথা মনে করতে কিছুটা বেশি সময় লাগা স্বাভাবিক। যেমন—
- কোথায় চশমা বা মোবাইল রেখেছেন তা কিছুক্ষণ ভুলে যাওয়া।
- পরিচিত কারও নাম পরে মনে পড়া।
- কোনও আগে থেকে নির্ধারিত কাজ মাঝে মাঝে ভুলে যাওয়া।
এ ধরনের সমস্যা সাধারণত দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করে না।
কোনও কারণে বাড়তে পারে ভুলে যাওয়া?
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়ার পিছনে কয়েকটি সাধারণ কারণ রয়েছে—
A. অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও উদ্বেগ।
B. পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব।
C. ভিটামিন B12 ও ভিটামিন D-এর ঘাটতি।
D. কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, যেমন অ্যান্টিহিস্টামিন, ঘুমের ওষুধ বা কিছু অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট।
E. মহিলাদের মেনোপজ-পরবর্তী হরমোনের পরিবর্তন।
কখন সতর্ক হবেন?
ডা. বিশাল জৈনের মতে, নীচের লক্ষণগুলি দেখা দিলে দেরি না করে নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত—
- একই প্রশ্ন বারবার করা।
- নতুন তথ্য বা সাম্প্রতিক ঘটনা মনে না থাকা।
- পরিচিত জায়গায় পথ ভুলে যাওয়া।
- ওষুধ, টাকা বা দৈনন্দিন হিসাব রাখতে সমস্যা হওয়া।
- সময়, স্থান বা মানুষের পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি।
- কথাবার্তায় অসুবিধা, আচরণ বা ব্যক্তিত্বে বড় পরিবর্তন।
কোন কোন রোগের ইঙ্গিত হতে পারে?
সব ভুলে যাওয়াই ডিমেনশিয়া নয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা বাড়তে থাকলে তা ডিমেনশিয়া-র প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। এছাড়াও স্ট্রোক, পারকিনসনস রোগ, এপিলেপসি, মস্তিষ্কের সংক্রমণ, মাথায় গুরুতর আঘাত বা কিছু অটোইমিউন রোগেও স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাভাবনার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই দ্রুত রোগ নির্ণয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ক্লান্তি কাটাতে ঘন ঘন কফি পান করেন? ক্যাফিন কতটা নিরাপদ?
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যাঁদের বয়স ৬৫ বছরের বেশি, পরিবারে ডিমেনশিয়ার ইতিহাস রয়েছে, অথবা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, ধূমপানের অভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
মস্তিষ্ক ভালো রাখতে কী করবেন?
ডা. জৈনের পরামর্শ—
- নিয়মিত শরীরচর্চা করুন।
- সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খান।
- প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানো প্রয়োজন। ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
- বই পড়া, ধাঁধা সমাধানের মতো মানসিক ব্যায়াম করুন।
- ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলুন।












1 thought on “বারবার ভুলে যাচ্ছেন? আড়ালে কি বাসা বাঁধছে কঠিন রোগ? জানুন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ”