হৃদরোগ এখন বিশ্ব জুড়ে মৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ। অনেকেই মনে করেন চিনি বা অতিরিক্ত তেল-চর্বি নাকি এই হৃদরোগের জন্য দায়ী। তবে চিকিৎসকদের মতে, ট্রান্স ফ্যাট (Trans Fat) হলো এমন এক ধরনের ক্ষতিকর চর্বি যা দীর্ঘদিন ধরে শরীরে জমতে জমতে নীরবে হার্টের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। নিয়মিত ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার খেলে ধমনিতে চর্বি জমে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক-সহ একাধিক গুরুতর রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
Trans Fat: ট্রান্স ফ্যাট কী?
ট্রান্স ফ্যাট মূলত দুই ধরনের—
প্রাকৃতিক ট্রান্স ফ্যাট: গরু, ছাগলের মতো প্রাণীর দুধ ও মাংসে অল্প পরিমাণে থাকে।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রান্স ফ্যাট: উদ্ভিজ্জ তেলকে বিশেষ প্রক্রিয়াকরণ করে তৈরি করলে যে ট্রান্স ফ্যাট তৈরি হয় তা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক।
ট্রান্স ফ্যাট কীভাবে হার্টের ক্ষতি করে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রান্স ফ্যাট শরীরে একসঙ্গে দুটি ক্ষতি করে—
খারাপ কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয়, ফলে ধমনির ভিতরে চর্বি জমতে শুরু করে। আর অন্যদিকে ভালো কোলেস্টেরল (HDL) কমিয়ে দেয়, যা সাধারণত শরীর থেকে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল সরিয়ে দিতে সাহায্য করে। এর ফলে ধমনিতে প্লাক জমে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। কোনও সময় সেই প্লাক ফেটে রক্ত জমাট বাঁধলে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা তৈরি হয়।
কোন খাবারে বেশি থাকে ট্রান্স ফ্যাট (Trans Fat) ?
নিয়মিত খাওয়া অনেক খাবারেই লুকিয়ে থাকতে পারে ট্রান্স ফ্যাট। যেমন—
ডিপ-ফ্রাই করা খাবার
বিস্কুট
কেক ও পেস্ট্রি
প্যাকেটজাত স্ন্যাকস
ফাস্ট ফুড
কিছু ফ্রোজেন প্রসেসড খাবার
কেন এত বিপজ্জনক?
ট্রান্স ফ্যাটের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এটি গ্রহণের ফলে শরীরে তাৎক্ষণিক কোনও লক্ষণ দেখায় না। বছরের পর বছর ধীরে ধীরে ধমনির ক্ষতি করতে থাকে এই ফ্যাট। পরে একসময় হঠাৎ করেই হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজের মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বারবার ভুলে যাচ্ছেন? আড়ালে কি বাসা বাঁধছে কঠিন রোগ? জানুন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র সতর্কবার্তা
WHO-র তথ্য অনুযায়ী—
অতিরিক্ত ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রান্স ফ্যাট খেলে করোনারি হৃদরোগের ঝুঁকি ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। আর এই করোনারি হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি ২৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
তাই সংস্থার পরামর্শ, দৈনিক মোট ক্যালরির ১ শতাংশেরও কম ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণ করা উচিত। তবে চিকিৎসকদের মতে, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রান্স ফ্যাট যতটা সম্ভব সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
কিছু বিশেষ রোগ থাকলে সেইসব ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ট্রান্স ফ্যাটের ক্ষতি আরও বেশি হতে পারে—
ডায়াবেটিস রোগী
স্থূলতায় ভোগা ব্যক্তি
উচ্চ রক্তচাপের রোগী
উচ্চ কোলেস্টেরল রয়েছে যাঁদের
ধূমপায়ী
আগে থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি
পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে যাঁদের
কীভাবে ট্রান্স ফ্যাট এড়াবেন?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—
খাবারের প্যাকেটের উপাদানের তালিকা ভালো করে পড়ুন। “Partially Hydrogenated Oils” লেখা থাকলে সেই পণ্য এড়িয়ে চলুন।
প্যাকেটজাত ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খান।
ডিপ-ফ্রাই ও বেকারির খবর কম খাওয়াই ভালো।
যতটা সম্ভব বাড়িতে রান্না করা খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
স্বাস্থ্যকর বিকল্প কী?
ট্রান্স ফ্যাটের পরিবর্তে খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন- অলিভ অয়েল, সর্ষের তেল, বিভিন্ন ধরনের বাদাম, বীজজাতীয় খাবার, চর্বিযুক্ত সামুদ্রিক মাছ, অ্যাভোকাডো।
এছাড়াও ট্রান্স ফ্যাট এড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম, শাকসবজি-ফল, গোটা শস্য ও প্রোটিনসমৃদ্ধ সুষম খাদ্য গ্রহণ, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল নিয়মিত পরীক্ষা করা, তামাকজাত দ্রব্য থেকে দূরে থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।












1 thought on “হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে ‘ট্রান্স ফ্যাট’, কোন খাবারে লুকিয়ে থাকে এটি, কীভাবে বাঁচবেন?”