আইএসএল ট্রফি আর ইস্টবেঙ্গলের মধ্যে এখন যেন শুধু শেষ ধাপের অপেক্ষা (East Bengal vs Inter Kashi)। বৃহস্পতিবার কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে জিততে পারলেই বহু প্রতীক্ষিত স্বপ্নপূরণ হতে পারে লাল-হলুদের। শক্তি, আত্মবিশ্বাস এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স— সব দিক থেকেই এগিয়ে অস্কার ব্রুজোর দল। ফলে সমর্থকদের আবেগ এখন তুঙ্গে। তবে এই উত্তেজনার মধ্যেও সংযম হারাতে রাজি নন ইস্টবেঙ্গল কোচ।
ম্যাচের আগের সাংবাদিক বৈঠকে ইউসেফ এজেজারিকে পাশে নিয়ে অস্কার ব্রুজো স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এখন শুধু লক্ষ্য একটাই— শেষ বাধা টপকে চ্যাম্পিয়ন হওয়া। তাঁর কথায়, “পুরো মরশুম জুড়েই আমি দলকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মানসিকতা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কারণ এই দলটার উপর আমার সম্পূর্ণ বিশ্বাস ছিল। গত কয়েক বছরে ইস্টবেঙ্গলের হতাশাজনক ফলাফল বদলানোই ছিল আমাদের লক্ষ্য।”
পয়েন্ট টেবিলে সুবিধাজনক জায়গায় থাকলেও কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ লাল-হলুদ শিবির। কারণ ইস্টবেঙ্গলের ঠিক পিছনেই রয়েছে আরও কয়েকটি দল, যারা শেষ মুহূর্তে সমীকরণ বদলে দিতে পারে। তাই আবেগে ভেসে না গিয়ে বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়েই পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন ব্রুজো। শুধু জয় নয়, গোল ব্যবধানের দিকেও নজর রয়েছে তাঁর।
ইন্টার কাশীকে কোনওভাবেই হালকা নিচ্ছেন না ইস্টবেঙ্গল কোচ। কয়েক সপ্তাহ আগেই মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের বিরুদ্ধে দুরন্ত লড়াই করে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করেছে তারা। সেই প্রসঙ্গ টেনে ব্রুজো বলেন, “ইন্টার কাশী কতটা শক্তিশালী দল সেটা আমরা জানি। তবে আমরা যদি নিজেদের সঠিক ফুটবল খেলতে পারি, তাহলে শিরোপা জয়ের বড় সুযোগ আমাদের সামনে থাকবে। এখন আমাদের পুরো মনোযোগ নিজেদের পারফরম্যান্সে।”
মাত্র দেড় বছর আগে যে দলটা পয়েন্ট টেবিলের নিচের দিকে থাকাই যেন অভ্যাসে পরিণত করেছিল, সেই দলই আজ শিরোপার দরজায়। দীর্ঘ ২২ বছর জাতীয় খেতাবের অপেক্ষার অবসান ঘটানোর সামনে দাঁড়িয়ে ইস্টবেঙ্গল। অনেকটা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালের সাম্প্রতিক সাফল্যের মতোই বদলে গিয়েছে লাল-হলুদের মানসিকতা।
ব্রুজো বলেন, “এতদিন আমরা ম্যাচ ধরে ধরে এগোনোর কথা বলতাম। কিন্তু এখন সময় এসেছে শিরোপা নিয়ে ভাবার। মোহনবাগানের বিরুদ্ধে যে মানের ফুটবল খেলেছি, সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ছেলেরা ভীষণ ক্ষুধার্ত। এই মুহূর্তে আবেগ নয়, প্রয়োজন শুধুই মনসংযোগ।”
পদক জিতলেই আর্থিক পুরস্কার ও সরকারি চাকরি, বাংলার ক্রীড়াবিদদের আশ্বাস ক্রীড়ামন্ত্রীর
দলের মানসিক প্রস্তুতির উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন কোচ। তাঁর দাবি, শুধু টেকনিক্যাল বা ট্যাকটিক্যাল নয়, সাইকোলজিক্যাল প্রস্তুতিতেও জোর দেওয়া হয়েছে। কারণ এই সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি নয় গোটা দল।
অন্যদিকে, প্রতিপক্ষ ইন্টার কাশীর কোচ অভিজিৎ মণ্ডলও যে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে প্রস্তুত, সেটা জানেন ব্রুজো। তাই প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চান না তিনি। বিপিন সিং ফিট হয়ে ফিরেছেন। কার্ড সমস্যা কাটিয়ে দলে ফিরছেন শৌভিক চক্রবর্তীও। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চান কোচ, যেখানে ইউসেফ এজেজারির উপর থাকবে গোল করার বড় দায়িত্ব।
চোটের কারণে আগেই ছিটকে গিয়েছেন সল ক্রেস্পো ও মহেশ নওরেম। ডার্বির নায়ক এডমুন্ডও কার্ড সমস্যায় নেই। তবুও আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছেন না ব্রুজো। তাঁর কথায়, “আজ রাতে আমি নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারব। কারণ এই মুহূর্তে আমাদের দলের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, স্থিরতা এবং জয়ের ক্ষুধা— সবটাই রয়েছে। বাইরের কোনও বিষয় নিয়ে ভাবার দরকার নেই। সবকিছু আমাদের হাতেই রয়েছে।”
অস্কার ব্রুজোর সংযত অথচ আত্মবিশ্বাসী কথাতেই যেন ধরা পড়ছে ইস্টবেঙ্গলের বর্তমান মানসিকতা। আর সেই বিশ্বাস নিয়েই কিশোরভারতী স্টেডিয়ামে স্বপ্নের রাতের অপেক্ষায় লাল-হলুদ সমর্থকেরা।












2 thoughts on “এগিয়ে থেকেও আবেগ নয়, কাশীর বিরুদ্ধে নামার আগে বাস্তবের মাটিতে পা ইস্টবেঙ্গলের”