চলতি আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের (KKR) পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে জয় এলেও সামগ্রিক পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট। ফলে সমর্থকদের মধ্যেও আত্মবিশ্বাস পুরোপুরি ফিরছে না।
দলের বোলিং আক্রমণ মূলত নির্ভর করছে স্পিন জুটি সুনীল নারিন ও বরুণ চক্রবর্তীর উপর। শেষ ম্যাচে এই দু’জনই পুরনো ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা কেকেআর বোলিংকে আবার ধারালো করে তুলেছে। অন্যদিকে পেস বিভাগে ধীরে ধীরে নিজের ছন্দ ফিরে পাচ্ছেন ক্যামেরুন গ্রিন। ব্যাট-বল-ফিল্ডিং—তিন ক্ষেত্রেই তাঁর উপস্থিতি দলের জন্য বড় ভরসা হয়ে উঠছে।
লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে ম্যাচকে ঘিরে বাড়তি উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইডেনে প্রথম সাক্ষাতে মুকুল চৌধরির দুরন্ত ইনিংস কেকেআরের হাত থেকে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল। এবার লখনউয়ের মাঠে সেই হারের বদলা নেওয়ার সুযোগ নাইটদের সামনে।
সাংবাদিক সম্মেলনে অনুকূল রায় জানিয়েছেন, “শেষ ম্যাচের জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। এই ধারাটা ধরে রাখতে চাই। লখনউয়ের বিরুদ্ধে জয়ের লক্ষ্যেই নামব।”
মাঝের বিরতিতে দলে কিছু পরিবর্তনও এসেছে। শ্রীলঙ্কার তরুণ পেসার মাথিশা পাথিরানা দলে যোগ দিয়েছেন এবং অনুশীলনেও নজর কাড়ছেন। তাঁর মালিঙ্গা-ধাঁচের বোলিং অ্যাকশন প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। যদিও তিনি প্রথম একাদশে থাকবেন কি না, তা টসের সময়ই স্পষ্ট হবে।
তবে পেস বোলিং এখনও কেকেআরের দুর্বল জায়গা। বৈভব অরোরা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি, যদিও কার্তিক ত্যাগী কিছুটা আশা জাগিয়েছেন। ফলে দল নির্বাচনে ম্যানেজমেন্টকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। চতুর্থ বিদেশি হিসেবে পাথিরানাকে খেলানো হলে টিম সেফার্টকে বসতে হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব নিতে পারেন অঙ্গকৃষ রঘুবংশী।
ব্যাটিং বিভাগেও প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে। অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানের ফর্ম চিন্তার কারণ, কারণ ইনিংসের শুরুতেই তিনি ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হচ্ছেন। তবে রিঙ্কু সিংয়ের রান পাওয়া দলের জন্য ইতিবাচক দিক।
অনুকূল রায় আরও বলেন, “আমরা অনেক চেষ্টা করেও আগে সাফল্য পাচ্ছিলাম না। শেষ ম্যাচের জয় কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে, তবে সামনে পথ কঠিন। এক ম্যাচ করে এগোতে হবে।”
অন্যদিকে লখনউ শিবিরও শক্তিশালী। মুকুল চৌধরির পাশাপাশি ঋষভ পন্থ, এডেন মার্করাম ও নিকোলাস পুরানের মতো বড় নাম রয়েছে। বোলিংয়ে রয়েছেন মহম্মদ শামি, যিনি নিজের ছন্দে ফেরার জন্য মুখিয়ে আছেন। যদিও KKR বা LSG কোনও শিবিরই খুব একটা ভালো জায়গায় নেই পয়েন্ট টেবলে।
সব মিলিয়ে, এই ম্যাচ কেকেআরের জন্য শুধু আরেকটি লিগ ম্যাচ নয়, বরং টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াই। লখনউয়ে জয় পেলে কেকেআর কিছুটা স্বস্তি পাবে এবং প্লে-অফের আশা বাঁচিয়ে রাখতে পারবে। না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে নাইটদের জন্য।












