রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

জঙ্গলে কাঠ কুড়ানো থেকে কমনওয়েলথে সোনা—মীরাবাই চানুর গল্প জানেন?

Mirabai Chanu
---Advertisement---

একসময় সংসারের চুলা জ্বালানোর জন্য জঙ্গল থেকে মাথায় করে জ্বালানি কাঠ বয়ে আনতেন। সেই মেয়েই (Mirabai Chanu) আজ কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম সোনা জিতে লিখলেন নতুন ইতিহাস। বাঁশের গুঁড়িই ছিল তাঁর প্রথম বারবেল, আর অদম্য ইচ্ছাশক্তিই ছিল সবচেয়ে বড় অস্ত্র। মণিপুরের ছোট্ট গ্রাম থেকে বিশ্বমঞ্চে উঠে আসা মীরাবাই চানুর জীবন যেন হার না মানা এক অনুপ্রেরণার গল্প।

Mirabai Chanu: গ্লাসগোতে ভারতের প্রথম সোনা

গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে মোট ১৯০ কেজি ওজন তুলে সোনা জিতেছেন মীরাবাই চানু। স্ন্যাচে ৮৫ কেজি তুলে গড়েছেন কমনওয়েলথ রেকর্ড। এরপর ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১০৫ কেজি তুলে গেমস রেকর্ডও নিজের নামে করেছেন। ২০১৮ ও ২০২২-এর পর এটি তাঁর টানা তৃতীয় কমনওয়েলথ গেমস সোনা। একইসঙ্গে এটি এবারের আসরে ভারতের প্রথম স্বর্ণপদক।

অভাবের সংসার থেকে শুরু স্বপ্নের পথচলা

১৯৯৪ সালের ৮ আগস্ট ইম্ফল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের নংপোক কাকচিং গ্রামে জন্ম মীরাবাইয়ের। ছয় ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট তিনি। বাবা ছিলেন রাজ্যের পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের নির্মাণ শ্রমিক, আর মা চালাতেন ছোট্ট একটি চায়ের দোকান। সংসারের অভাবের তারণায় ১২ বছর বয়সী (Mirabai Chanu) মিরাবাই চানু ভাইবোনদের সঙ্গে নিয়মিত জঙ্গলে গিয়ে জ্বালানি কাঠ কুড়িয়ে আনতেন।

জঙ্গলে ধরা পড়েছিল অসাধারণ শক্তি

মাত্র ১৬ বছর বয়সে দাদা সাইখোম সানাতোম্বার সঙ্গে কাঠ আনতে গিয়ে প্রথম নজরে আসে তাঁর অসাধারণ শক্তি। দাদা যেখানে ভারী কাঠ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছিলেন, সেখানে মীরাবাই অনায়াসে সেই বোঝা মাথায় তুলে প্রায় দুই কিলোমিটার পাহাড়ি পথ হেঁটে বাড়ি ফেরেন। সেই ঘটনাই পরিবারের মনে বিস্ময় জাগায়—এই মেয়ের ক্ষমতা।

হ্যাটট্রিক সোনা মীরাবাইয়ের, কমনওয়েলথ গেমসে গড়লেন নতুন ইতিহাস

Mirabai Chanu: স্বপ্ন ছিল তিরন্দাজ হওয়ার

মীরাবাইয়ের প্রথম ভালোবাসা কিন্তু ভারোত্তোলন ছিল না। তিনি তিরন্দাজ হতে চেয়েছিলেন। কারণ তাঁর মতে, তাঁর সব ভাই এবং কাজিনরা ফুটবল খেলে সবাই নোংরা হয়ে ফিরত, কিন্তু তিরন্দাজদের দেখত খুব পরিপাটি ও স্টাইলিশ। সেই স্বপ্ন নিয়েই স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেদিন তিরন্দাজির অনুশীলন না থাকায় চোখে পড়ে ভারোত্তোলকদের অনুশীলন। সেখান থেকেই বদলে যায় তাঁর জীবনের দিশা। শুরু হয় নতুন পথচলা।

Mirabai Chanu: বাঁশের গুঁড়িই ছিল প্রথম বারবেল

মণিপুরের কিংবদন্তি ভারোত্তোলক কুঞ্জরানি দেবীকে দেখে অনুপ্রাণিত হন মীরাবাই। নিজের গ্রামে প্রশিক্ষণের সুযোগ না থাকায় কোচ অনিতা চানুর কাছে প্রশিক্ষণ নিতে প্রতিদিন প্রায় ৪০ কিলোমিটার যাতায়াত করতেন। কখনও বাসে, কখনও ট্রাকে লিফট নিয়ে পৌঁছতেন। প্রথম ছয় মাস আসল বারবেলও ছিল না। বাঁশের গুঁড়ি দিয়েই অনুশীলন চালিয়ে গিয়েছেন তিনি।

রিওর ব্যর্থতা থেকে সোনা জয়

২০১৪ সালের গ্লাসগো কমনওয়েলথে রুপো জেতার পর ২০১৬ রিও অলিম্পিকে একটি ক্লিন অ্যান্ড জার্কও সফল করতে পারেননি (Mirabai Chanu) মীরাবাই। সেই ব্যর্থতায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। পরে নিজেই বলেছিলেন, এত পরিশ্রম করেও কেন সফল হতে পারলেন না, সেই প্রশ্ন তাঁকে তাড়া করত। কিন্তু হার মানেননি। এক বছরের মধ্যেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হন। এরপর টোকিও অলিম্পিকে জেতেন রুপো। আর এবার গ্লাসগোতে টানা তৃতীয় কমনওয়েলথ সোনা জিতে আবারও প্রমাণ করলেন—স্বপ্ন যদি সত্যিই বড় হয়, তবে দারিদ্র্য, কষ্ট বা ব্যর্থতা কোনওটাই শেষ কথা নয়। মীরাবাই চানুর গল্প তাই শুধু পদক জয়ের নয়, কোটি মানুষের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সাহসেরও নাম। তিনি প্রমাণ দেখিয়ে দিয়েছেন – স্বপ্নের ওজন যতই ভারী হোক, ইচ্ছাশক্তি থাকলে তা একদিন কাঁধে তুলে নেওয়া যায়।

একটুর জন্য হাতছাড়া সোনা, কমনওয়েলথে রুপো জিতে ইতিহাস ভারতের ঋষিকান্ত সিংয়ের


Ishani Halder

ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা ও ক্রিকেটের খবরের প্রতি আলাদা আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহ থেকেই সাংবাদিকতায় আসা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছি। মূলত খেলার খবর লিখতেই বেশি ভালো লাগে, পাশাপাশি রাজনীতি, ভাইরাল ও বিভিন্ন চলতি বিষয় নিয়েও খবর লিখতে বিশেষ আগ্রহী। খেলাধুলা দেখতে ও তার বিভিন্ন দিক নিয়ে জানতে ভালো লাগে। দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তথ্য পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। লেখালিখির পাশাপাশি বই পড়তে খুব ভালো লাগে এবং নতুন বিষয় জানতে সবসময় আগ্রহী।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

1 thought on “জঙ্গলে কাঠ কুড়ানো থেকে কমনওয়েলথে সোনা—মীরাবাই চানুর গল্প জানেন?”

Leave a Comment