ফিফার ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে মহমেডান স্পোর্টিং (Mohamedan SC)। তবে সেই স্বস্তির মধ্যেই ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম বড় সমস্যার দিকে আঙুল তুললেন ক্লাবের সচিব ওয়াসিম আক্রম। তাঁর অভিযোগ, ‘এজেন্ট রাজ’ এখন ভারতীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু মহমেডান নয়, দেশের একাধিক ক্লাব একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে বলেও দাবি তাঁর।
ফিফা ব্যান কাটল, সেপ্টেম্বরে নতুন ফুটবলার সই
সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে ওয়াসিম আক্রম জানান, ২০২৫ সালে সই করানো ফুটবলার আবদুল কাদরি অনুশীলনে চোট পেয়ে একটিও ম্যাচ খেলতে পারেননি। পরে পারস্পরিক সমঝোতায় বকেয়া মিটিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে অর্থ না পৌঁছনোয় তিনি ফিফার দ্বারস্থ হন। সেই কারণেই (Mohamedan SC) মহমেডানের উপর ট্রান্সফার ব্যান নেমেছিল। নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর ২৫ জুলাই বকেয়া মিটিয়ে দেয় এবং ফিফার স্বীকৃতিও মেলে। ফলে সেপ্টেম্বর থেকে নতুন দেশি-বিদেশি ফুটবলার নিবন্ধন ও প্রি-কন্ট্র্যাক্টে আর বাধা নেই।
Mohamedan SC: ‘এজেন্টরা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে’
ওয়াসিমের অভিযোগ, গুজরাট ও বেঙ্গালুরু কেন্দ্রিক কিছু এজেন্ট এখন কার্যত ট্রান্সফার বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। কোনও ফুটবলারের সঙ্গে প্রায় চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার পরেও এজেন্টদের হস্তক্ষেপে চুক্তি ভেস্তে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, খেলোয়াড়দের স্বার্থরক্ষা গ্রহণযোগ্য হলেও, লিগ না হওয়ায় যে সময় ফুটবলাররা খেলেননি সেই সময়ের বেতন কমানোর অনুরোধও এজেন্টরা মানছেন না। এভাবে চুক্তিকে অস্ত্র করে ফিফার ভয় দেখানো কার্যত ‘এক ধরনের এক্সটরশন’ বলেই মন্তব্য করেন তিনি। ফেডারেশনের এ বিষয়ে হস্তক্ষেপও দাবি করেছেন। প্রসঙ্গত ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষ কর্তা দেবব্রত সরকার দিনকয়েক আগে এজেন্ট রাজের দাপট নিয়ে সরব হয়েছিলেন। ক্লাব সচিব আরও জানান, এই ইস্যু নিয়ে ফেডারেশনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হবে না।
Mohamedan SC: বিনিয়োগই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
মহমেডান সচিবের মতে, ভারতে ফুটবলে বিনিয়োগে শিল্পপতিরা আগ্রহ হারাচ্ছেন, কারণ পর্যাপ্ত ROI নেই। দুটি শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি। তবে রাতারাতি বিনিয়োগ আসবে না বলেও স্পষ্ট করেন। একই সঙ্গে বলেন, ISL সম্ভব না হলে আই-লিগ খেলতেও প্রস্তুত মহমেডান, কিন্তু ভারতীয় ফুটবলের পরিচালন ব্যবস্থা বদলানো জরুরি।
নতুন কমিটির ঘাড়ে পুরনো দায়
(Mohamedan SC) ক্লাব সচিব বিলাল আহমেদ খানের অভিযোগ, আগের কমিটি বাজারদরের তুলনায় অনেক বেশি পারিশ্রমিকে ফুটবলারদের চুক্তিবদ্ধ করেছিল। শেষ মুহূর্তে বিনিয়োগকারী সরে যাওয়ায় সেই দায় এখন নতুন কমিটির উপর এসে পড়েছে। তাই বড় কর্পোরেট না হলেও, ক্লাবপ্রেমী ১০-১২ জন বিনিয়োগকারী এগিয়ে এলে মহমেডান ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলেই আশাবাদী তিনি।
কমনওয়েলথে রুপোর ঝলক, রাজা মুথুপান্ডির সাফল্যে উচ্ছ্বসিত মোদি











1 thought on “ফিফা ব্যান কাটতেই বিস্ফোরক মহমেডান, ‘এজেন্ট রাজে’ ধ্বংসের পথে ভারতীয় ফুটবল”