একদিকে লাল-হলুদের উচ্ছ্বাস, ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান। অন্যদিকে (Mohun Bagan SG) সবুজ-মেরুন শিবিরে নীরবতা, আক্ষেপ আর আত্মসমালোচনার শুরু। ট্রফি হাতে ওঠেনি ঠিকই, কিন্তু পয়েন্টে সমানে সমান লড়াই করে শেষ পর্যন্ত গোল পার্থক্যে পিছিয়ে রানার্স-আপ হয়েই থামতে হয়েছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে (Mohun Bagan SG)। আর সেই হার যেন শুধু একটা ফলাফল নয়, পুরো মরশুমে কিছু না বলা প্রশ্নকে সামনে এনে দিল।
শেষ কয়েকটা ম্যাচে সুযোগ তৈরি হয়েছে, আক্রমণ হয়েছে, কিন্তু গোল হয়নি। স্ট্রাইকারদের একের পর এক মিস, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ছন্দ হারানো— সমর্থকদের হতাশার বড় কারণ। তবে এবার শুধু ফুটবলারদের দায়েই বিষয়টা আটকে থাকছে না। (Mohun Bagan SG) সবুজ মেরুন সভাপতি দেবাশিস দত্তর বক্তব্যে স্পষ্ট, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে কোচ সের্জিও লোবেরার সিদ্ধান্তও।
দেবাশিস দত্ত খোলাখুলি জানিয়েছেন, বোর্ড মিটিংয়ে কোচের কিছু পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে। তাঁর মতে, দলের গঠন, ম্যাচ ম্যানেজমেন্ট এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা— সবকিছু নিয়েই নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। এই বক্তব্য স্বাভাবিকভাবেই নতুন প্রশ্ন তুলছে— তাহলে কি লোবেরার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত?
যদিও এখনই কোচ পরিবর্তনের সরাসরি ইঙ্গিত মেলেনি, কিন্তু ফুটবলে অনেক সময় কথার মাঝেই লুকিয়ে থাকে পরিবর্তনের আভাস। কারণ রানার্স-আপ হওয়া ব্যর্থতা নয়, কিন্তু মোহনবাগানের মতো ক্লাবের কাছে লক্ষ্য সবসময় একটাই— শিরোপা। সেখানে অল্পের জন্য পিছিয়ে পড়া আরও বেশি কষ্ট দেয়।
ISL হাতছাড়া, তবু লড়াইয়ের শেষ মুহূর্তে জয় — সেকেন্ড বয় মোহনবাগান
তবে এই মুহূর্তে শুধুই কাউকে দায়ী করলে হবে না। এই দলই দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষে থেকেছে, এই দলই সমর্থকদের বিশ্বাস তৈরি করেছে। তাই প্রশ্ন যেমন উঠছে, তেমনই আত্মসমালোচনাও দরকার। ফরওয়ার্ড লাইনের কার্যকারিতা, বড় ম্যাচে মানসিক দৃঢ়তা, স্কোয়াড রোটেশন— সবই এখন বিশ্লেষণের টেবিলে উঠতে চলেছে।
আর এখানেই হয়তো (Mohun Bagan SG) মোহনবাগানের পরের অধ্যায়ের শুরু। লোবেরা থাকবেন না বদল আসবে— তার সিদ্ধান্ত পরে হবে। কিন্তু পরিষ্কার, আগামী মরসুমের আগে বড়সড় মূল্যায়ন অপেক্ষা করছে পুরো দলের জন্য। শুধু কোচ নয়, প্রত্যেক ফুটবলারের কাছেই এখন বার্তা একটাই— রানার্স-আপ হয়ে থেমে গেলে চলবে না।
তবুও এই হারের মধ্যেও বড় ছবি ভুলে যাননি দেবাশিস দত্ত। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল এফসিকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, বাংলার ফুটবলের শক্তি তখনই সবচেয়ে সুন্দর যখন এক নম্বরে লড়াই করে বাংলার দুই ঐতিহ্যশালী ক্লাব।
শেষ বাঁশি বেজে গিয়েছে, ট্রফি হাতছাড়া হয়েছে। কিন্তু (Mohun Bagan SG) মোহনবাগানের মতো ক্লাবের গল্প কখনও শুধু একটি মরসুমে শেষ হয় না। এই রানার্স-আপ হওয়া হয়তো ব্যর্থতার স্মৃতি হয়ে থাকবে, আবার এটাই হয়ে উঠতে পারে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু। এখন নজর বোর্ডরুমে, সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় কোচ লোবেরা, আর সমর্থকদের একটাই আশা— এই আক্ষেপ যেন আগামী মরসুমে জেদের আগুন হয়ে ফিরে আসে। কারণ সবুজ-মেরুনে শেষ কথা কখনও রানার্স-আপ নয়, শেষ কথা সবসময় ফিরে আসা।
‘২২ বছরে ট্রফি পাইনি— এটা ভুল ধারণা’, ISL জিতে আবেগঘন বার্তা ইস্টবেঙ্গল শীর্ষকর্তার











