ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্দোর ‘সিইইউ’, কিলিয়ান এমবাপের হাত জোড় করে দাঁড়ানোর ভঙ্গি কিংবা অঁতোয়া গ্রিজম্যানের জনপ্রিয় নাচ—ফুটবলে গোলের মতোই উদযাপনও হয়ে উঠেছে খেলোয়াড়দের পরিচয়ের অংশ। সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন দল ও তারকারা নিজেদের স্বাক্ষর রেখে গেছেন ভিন্ন ভিন্ন সেলিব্রেশনের মাধ্যমে। তবে চলতি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকা উদযাপনের নাম (Viking Row) ‘ভাইকিং রো’। আর সেটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নরওয়ে।
২৮ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে শুধু পারফরম্যান্সেই নয়, নিজেদের ঐতিহ্যবাহী উদযাপন (Viking Row) ‘ভাইকিং রো’-এর মাধ্যমেও বিশ্ব জুড়ে আলোড়ন তুলেছে নরওয়ে। আর্লিং হাল্যান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ডদের নেতৃত্বে মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি এই অনন্য উদযাপন এখন স্টেডিয়াম থেকে সংসদ ভবন, এমনকি নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারেও ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্বকাপের অন্যতম চমক হয়ে উঠেছে নরওয়ে। দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষা শেষে বিশ্বকাপের মূলপর্বে ফিরে তারা ইতিমধ্যেই নকআউট নিশ্চিত করেছে। গ্রুপ ‘আই’-এ টানা দুই ম্যাচ জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি এখন বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাব্য দাবিদারদের তালিকাতেও নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে।
সেনেগালের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৩-২ গোলের জয় নকআউটের দরজা খুলে দেয় নরওয়ের সামনে। তবে সেই জয়ের পর মাঠে দেখা যায় এক ভিন্ন দৃশ্য। (Viking Row) খেলোয়াড়রা সমর্থকদের সামনে বসে একসঙ্গে দাঁড় টানার মতো ভঙ্গিতে উদযাপন করেন। মার্টিন ওডেগার্ডের বাজানো ড্রামের তালে পুরো দল অংশ নেয় সেই উদযাপনে। মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে দৃশ্যটি।
The Norwegian team and fans doing the Row are just beautiful.pic.twitter.com/hi2YqZimUi
— World Cup 2026 Daily (@TotalFootball) June 23, 2026
(Viking Row) ‘ভাইকিং রো’ নামে পরিচিত এই উদযাপনের শিকড় লুকিয়ে আছে নরওয়ের শত শত বছরের ইতিহাসে। ইতিহাসবিদদের মতে, ৭০০ থেকে ১১০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বিস্তৃত ভাইকিং যুগে নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্কের যোদ্ধারা বিশাল লংবোটে চড়ে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে সমুদ্রযাত্রা করতেন। ব্রিটেন, আয়ারল্যান্ডসহ নানা দেশে পৌঁছে তারা বাণিজ্য ও অভিযানে অংশ নিতেন এবং রুপো, রেশম, মশলা, অলংকার ও মূল্যবান সামগ্রী সংগ্রহ করে দেশে ফিরতেন।
ফুটবল মাঠে দাঁড় টানার এই প্রতীকী ভঙ্গি সেই ঐতিহাসিক সমুদ্রযাত্রারই স্মারক। ফলে এটি কেবল একটি গোল উদযাপন নয়; বরং নরওয়ের জাতীয় পরিচয়, ঐতিহ্য এবং ঐক্যের প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
All of Norway has taken over Times Square pic.twitter.com/0pEHrEeFbE
— Barstool Sports (@barstoolsports) June 22, 2026
বিশ্বকাপ শুরুর আগে নরওয়ের রাজধানী অসলোতে এই উদযাপনের সূচনা হয়। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন শহর, স্টেডিয়ামের গ্যালারি এবং রাস্তাঘাটে। এমনকি নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত টাইমস স্কয়ারেও দেখা গেছে (Viking Row) ‘ভাইকিং রো’-তে অংশ নিতে নরওয়ের সমর্থকদের। ট্রন্ডহাইম শহরেও হাজারো মানুষ একই ভঙ্গিতে উদযাপন করছেন। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা নরওয়েজিয়ানদের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক নতুন সংযোগ।
মিডফিল্ডার প্যাট্রিক বার্গের মতে, শুরুতে অনেকেই ভেবেছিলেন এই উদযাপন হয়তো অল্পদিনের মধ্যেই হারিয়ে যাবে। কিন্তু এখন এটি নরওয়ের বিশ্বকাপ অভিযানের অন্যতম পরিচয়ে পরিণত হয়েছে। তাঁর ভাষায়, সমর্থকদের সঙ্গে এই বন্ধন দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে।
🚣🤯 An aerial view of the Norway fan Viking Row. pic.twitter.com/SGSAWWtPI6
— Ultras Clips (@ultras_clips) June 24, 2026
এখন নরওয়ের সামনে গ্রুপপর্বের শেষ চ্যালেঞ্জ ফ্রান্স। শুক্রবারের সেই ম্যাচে জয় পেলে শুধু গ্রুপসেরা হওয়ার সম্ভাবনাই নয়, বিশ্বকাপের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবেও নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করবে হাল্যান্ড-ওডেগার্ডরা। তবে মাঠের ফল যাই হোক, (Viking Row) ‘ভাইকিং রো’ ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত উদযাপনগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুন :- জোড়া গোলে সমালোচনার জবাব, মেসির নাম শুনেই কী করলেন রোনাল্দো?












2 thoughts on “বিশ্বকাপে নরওয়ের ‘ভাইকিং রো’, মাঠ পেরিয়ে বিশ্ব জুড়ে ভাইরাল হাল্যান্ডদের উদযাপন”