২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ, আবেগঘন বার্তা এবং রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন (Mamata Banerjee) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সভা ভাঙচুর থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘বাইক বাহিনী’ নামানোর অভিযোগ, দলত্যাগীদের কটাক্ষ থেকে কর্মীদের উদ্দেশে লড়াইয়ের ডাক— প্রায় প্রতিটি বক্তব্যেই উঠে এল সংঘাতের সুর।
Mamata Banerjee: ‘নেতারা গেছেন, কর্মীরা যাননি’— ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে সংগঠনকে নতুন বার্তা
‘আমার পিছনে কয়েক লক্ষ মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন, সামনে কূলকিনারা নেই’— এই বার্তা দিয়েই ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে ভাষণ শুরু করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শহিদ পরিবার, কর্মী, ছাত্র-যুব ও স্বেচ্ছাসেবকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি দাবি করেন, ‘এত টাকা, লাঞ্ছনা, প্রলোভনের পরেও মানুষ আমাদের পাশেই থেকেছেন।’
সভা ভাঙচুরের অভিযোগ
(Mamata Banerjee) মমতার অভিযোগ, আগের রাতে সভার মঞ্চ ভাঙচুর, সাউন্ড সিস্টেম নষ্ট, বিদ্যুতের তার কেটে দেওয়া এবং ‘৬০০ জনের বাইক বাহিনী’ পাঠিয়ে সভা বানচালের চেষ্টা করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ‘সব তার কেটেছে বিজেপি’। বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন তারকাটা পার্টি। হাইকোর্টের নির্দেশেই এই সমাবেশ সম্ভব হয়েছে বলেও আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
Abhishek Banerjee: ‘মাটি কাটা দেখতে বেশি লোক হয়’, একুশের মঞ্চ থেকে ঋতব্রত তৃণমূলকে খোঁচা অভিষেকের
দলত্যাগীদের কড়া বার্তা মমতার
বিজেপিকে নিশানা করে তিনি (Mamata Banerjee) বলেন, ‘ভয় না পেলে ভয় দেখাবে কাকে? আমরা বাংলার বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই করি।’ দলত্যাগীদের উদ্দেশে মমতা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বিজেপির পাশ বালিশ না হয়ে সরাসরি বিজেপিতে চলে যান। আমার কোনও আপত্তি নেই। যত যাবেন, তত নতুন যুব-ছাত্ররা সেই জায়গা পূরণ করবে।” পাশাপাশি তাঁর মন্তব্য, “নেতারা গেছেন, কর্মীরা যাননি। আসল তৃণমূল তারাই। আমার যুব-ছাত্ররা নতুন করে দলকে কানায় কানায় পূর্ণ করে দেবে।”
পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
পুলিশ ও প্রশাসনের একাংশের ভূমিকা নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, “কোথাও IC বিজেপির ব্লক প্রেসিডেন্টের মতো, কোথাও SP বিজেপির জেলা সভাপতির মতো কাজ করছে।”
21st July: কোনও সভা নয়, নিজেদের বাড়িতেই শহিদ দিবস পালন সোনারপুরের রতন মণ্ডলের পরিবারের
CBI-ED, FIR ও প্রতীকের লড়াইয়ে হুঁশিয়ারি
(Mamata Banerjee) তিনি সরাসরি জানান, প্রয়োজনে দলের প্রতীকের জন্য সুপ্রিম কোর্টে যাবেন। মানুষ যেটা ভালোবেসে স্বীকার করবে সেটাই হবে দলের প্রতীক। আমরাই আসল তৃণমূল। তিনি আরও দাবি করেন, তৃণমূলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হলেও ”অভিষেকের বিরুদ্ধে ৪০০টি মামলা করেও কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এখন ধরে ধরে FIR করা হচ্ছে।” একই সঙ্গে CBI-ED-র প্রসঙ্গ টেনে তাঁর হুঁশিয়ারি, “আমিও খাতা খুলতে পারি। বেশি লাগতে আসবেন না।” পাশাপাশি কেন্দ্র , নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা, DA, শিক্ষা, অর্থনীতি, বুলডোজার রাজনীতি, প্রণামীর টাকা লুট এবং বারুইপুর-সহ একাধিক ইস্যুতে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানান।
এছাড়াও নেত্রী আহ্বান, পারলে CJP-কে সমর্থন করুন। আমরা আছি। ভাষণের শেষেও লড়াইয়ের সুর বজায় রেখে মমতার বার্তা, ‘নেতারা গেছেন, কর্মীরা যাননি। আসল তৃণমূল আমরা। সাহস থাকলে আমার সঙ্গে থাকুন। বিজেপি হটাও, বাংলা বাঁচাও। বিজেপির ভাত খাওয়ার থেকে জেলের ভাত খাওয়া ভালো’। আগামী দিনে বাংলায় ইন্ডিয়া জোট আরও শক্তিশালী হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
আরও পড়ুন :







