একসময় পাড়ায় পাড়ায় বসত ম্যাজিকের আসর। জাদুকরের হাতের কারসাজি দেখে চোখ কপালে উঠত দর্শকদের। কীভাবে চোখের সামনে একটা জিনিস উধাও হয়ে যাচ্ছে, কিংবা খালি হাত থেকে বেরিয়ে আসছে নানা জিনিস, তা দেখতেই ভিড় জমাতেন ছোট থেকে বড় সকলেই। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন ম্যাজিকের আসরের বদলে মোবাইলের পর্দাতেই বেশি ব্যস্ত নতুন প্রজন্ম। সেই হারিয়ে যেতে বসা জাদুশিল্পকে আবার ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী রাজ্য সরকার। এবার বাংলায় তৈরি হতে চলেছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল স্কুল অফ ম্যাজিক, ইলিউশন অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস’।
শুধু ম্যাজিক শেখানো নয়, এই প্রতিষ্ঠানে জাদুশিল্প নিয়ে গবেষণা, প্রদর্শনী এবং পুরনো ঐতিহ্য সংরক্ষণেরও ব্যবস্থা থাকবে। অর্থাৎ, যে শিল্প একসময় ছিল মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম, তাকে আবার নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
Magic School: শুধু হাতের কারসাজি নয়, থাকবে গবেষণার ব্যবস্থাও
নবান্ন সূত্রে খবর, প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানটিকে আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে থাকবে জাদুশিল্পের অ্যাকাডেমি, ম্যাজিক দেখানোর জন্য থিয়েটার হল, সংগ্রহশালা, আর্কাইভ এবং গবেষণাগার। পাশাপাশি জাদুর বিভিন্ন সরঞ্জাম ও পোশাক তৈরির জন্য কর্মশালাও তৈরি করা হবে। শিল্পীদের থাকার ব্যবস্থাও থাকবে ক্যাম্পাসে।
প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি এবং পরিচালনার বিষয়ে পরামর্শ দিতে একটি রাজ্য উপদেষ্টা কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই কমিটিতে পি সি সরকার পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে থাকছেন জয়শ্রী সরকার ও মানেকা সরকার। এ ছাড়াও রয়েছেন জাদুকর তন্ময় অধিকারী, শৈলেশ্বর মুখোপাধ্যায়, পঙ্কজ সরকার, শ্যামল কুমার এবং অনিন্দ্য কিশোর।
তলোয়ার হাতে গরবা, নবরাত্রিতে নাচের ছন্দে আত্মরক্ষার পাঠ
তিন বছরের মধ্যে তৈরির পরিকল্পনা
নবান্নের এক আধিকারিকের বক্তব্য, নতুন প্রজন্মের বড় একটা অংশ মোবাইলের পর্দায় ব্যস্ত থাকায় জাদুশিল্পের প্রতি আগ্রহও কমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে হারিয়ে যেতে বসা জাদু শিল্পকে নতুন করে জনপ্রিয় করে তোলার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাও এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে জমি চিহ্নিত করা, ক্যাম্পাসের নকশা তৈরি, প্রশিক্ষণের পাঠ্যক্রম ঠিক করা এবং শিক্ষক নিয়োগের কাজ হবে।
তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের অধীনে একটি স্বশাসিত সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হবে। প্রকল্পের খরচ মেটাতে রাজ্য সরকারের বরাদ্দের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় প্রকল্প, বিভিন্ন সংস্থার অনুদান, স্পনসরশিপ এবং অনুষ্ঠানের টিকিট বিক্রি থেকে আয়ের উপরেও নির্ভর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, মোবাইল আর ডিজিটাল বিনোদনের ভিড়ে বাংলার পুরনো জাদুশিল্পকে আবার মানুষের সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে রাজ্য। এবার সেই উদ্যোগ কতটা সফল হয়, সেটাই দেখার।











