দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। বুধবার রাতে কলকাতা শহরের একটি নার্সিংহোমে প্রয়াত হন প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরী (Abu Hasem Khan Choudhury)। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতার কারণে রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে ছিলেন কংগ্রেস সাংসদ ইশা খানের বাবা। ১৯৩৮ সালের ১২ জানুয়ারি মালদহের প্রখ্যাত খান পরিবারে জন্ম আবু হাসেম খান চৌধুরীর। ভারতীয় রাজনীতিতে মালদহের ‘খান চৌধুরী’ পরিবারের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন আবু হাসেম খান চৌধুরী, যিনি স্থানীয় মানুষের কাছে ‘ডালু বাবু’ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। আবু হাসেম খান চৌধুরী তাঁর বড় দাদা কিংবদন্তি কংগ্রেস নেতা এ.বি.এ. গনি খান চৌধুরীর ছত্রছায়ায় রাজনীতিতে আসেন। তিনি ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো মালদহের কালিয়াচক বিধানসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হন।
২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি একই আসন থেকে জয়লাভ করেন এবং ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালে গণি খান চৌধুরীর প্রয়াণের পর মালদহের রাজনীতিতে তাঁর উত্তরাধিকার হিসেবে ডালু বাবু উঠে আসেন। ২০০৬-এ উপনির্বাচনে দাদার মৃত্যুর পর অবিভক্ত মালদহ লোকসভা কেন্দ্র থেকে জিতে তিনি প্রথমবার সংসদে যান। ২০০৯ সালে মালদহ দক্ষিণে আসন পুনর্বিন্যাসের পর তিনি নতুন গঠিত মালদহ দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে লড়েন এবং জয়ী হন। এরপর ২০১৪ এবং ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও তিনি টানা জয়লাভ করেন। দীর্ঘ ১৮ বছর তিনি সাংসদ হিসেবে মালদহের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তাঁর পরিবর্তে পুত্র ইশা খান চৌধুরী এই আসনে লড়েন এবং জয়ী হন।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে এলগিন রোডের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি ছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। বুধবার রাত ৯টা ৫০ মিনিট নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। দলের প্রাক্তন সাংসদের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। শোক বার্তায় তিনি বলেন, “মালদহ জেলা কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি তথা প্রাক্তন সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরী (ডালু) বাবুর প্রয়াণে আমরা গভীর শোকাহত। জনকল্যাণমূলক এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে প্রয়াত আবু হাসেম খান চৌধুরীর (Abu Hasem Khan Choudhury) ভূমিকা আক্ষরিক অর্থেই প্রয়াত জননেতা এ.বি.এ. গনি খান চৌধুরীর উত্তরাধিকার বহন করেছিল। ডালু বাবু’র প্রয়াণ কংগ্রেসের পরিবারের কাছে এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমার সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। ব্যক্তিগত জীবনেও আমি শুভানুধ্যায়ী হারা হলাম। আমি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ এবং তাঁর অগণিত কর্মী সমর্থকদের প্রতি জানাই আন্তরিক সমবেদনা।”










