তিনবার এড়িয়ে অবশেষে বৃহস্পতিবার প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (Aroop Biswas) বিধাননগর পূর্ব থানায় হাজিরা দিলেন। সকাল ৯টা ৫৫ মিনিট নাগাদ তাঁকে থানায় ঢুকতে দেখা যায়। মেসি মামলায় অরূপ বিশ্বাসের এই হাজিরাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এবার এই আবহেই সামনে এল তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট নিয়ে নতুন বিতর্ক। HDFC ব্যাঙ্কের সেন্ট্রাল প্লাজা শাখায় চিঠি লিখে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার জন্য আবেদন জানালেন অরূপ বিশ্বাস। দলের অ্যাকাউন্টে সব লেনদেন বন্ধ করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
১৫ বছরের তৃণমূল জমানায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশেষ আস্থাভাজনদের মধ্যে অরূপ বিশ্বাস (Aroop Biswas) ছিলেন একজন। এবার কি মমতাকে চাপে ফেলার চেষ্টা করছেন সেই অরূপই? তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করতে চেয়ে ব্যাঙ্ক ম্যানেজারকে চিঠি পাঠিয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। ১২ জুন, ব্যাঙ্কে পাঠানো চিঠিতে নিজেকে তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ হিসাবে দাবি করেছেন অরূপ। চিঠিতে সংসদীয় ও পরিষদীয় দলে ভাঙনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দলের তহবিল কার হাতে থাকবে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে জটিলতা, আর সেই বিষয়টি উল্লেখ করেই অ্যাকাউন্টটি ফ্রিজ করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
সূত্রের খবর, অরূপের চিঠিতে মান্যতা দিচ্ছে না ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। কারণ ৫ জুন থেকে তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শুভাশিস চক্রবর্তীকে। এর আগে কালীঘাটে যখন বৈঠক হয়েছিল, তখন অরূপের সঙ্গে তর্কাতর্কির মতো একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। দ্বিতীয়ত, এটাও জানা যাচ্ছে, অরূপকে যখন যখন ডেকে পাঠানো হচ্ছিল, তিনি কালীঘাটে যাচ্ছিলেন না। তিন, মেসিকাণ্ডে অরূপের বিরুদ্ধে যখন পরপর অভিযোগ দায়ের হতে থাকে, তার মধ্যে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও জড়িয়ে যায়, তখন দলের অন্দরেও প্রশ্নের মুখে পড়ছিলেন অরূপ।
মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বও দলের মধ্যে চ্যালেঞ্জের মুখে। তার ওপর এবার কয়েকশো কোটি টাকা তহবিল নিয়েও তৈরি হল নতুন সঙ্কট। প্রশ্ন উঠছে আদৌ কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শক্রমে এই চিঠি লিখেছেন অরূপ বিশ্বাস? নাকি তিনিও ভালো তৃণমূল হওয়ার লক্ষ্যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এই নিয়ে কালীঘাটের অন্দরে জল্পনা আরও বাড়ল।











