বিশ্বকর্মা পুজো মানেই কোথাও কারখানায়, বাড়িতে পুজোর আয়োজন, মাইকে গান, আবার কোথাও মিষ্টির দোকানে লম্বা লাইন। তবে বাঁকুড়ার কেঞ্জাকুড়ায় বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক অন্যরকম মিষ্টির ঐতিহ্য। বিশাল আকারের জাম্বো জিলিপি। একসময় সে জিলিপি দেখতে যেমন পেল্লাই ছিল, তেমন তার ওজনও ছিল তাক লাগানো। এক একটি জিলিপির ওজন ১৫ থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত হতো। কিন্তু সেই দিন এখন অতীত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ছোট হয়েছে জিলিপির আকার, কমেছে চাহিদাও। এখন তো দুই থেকে আড়াই কেজির জিলিপিতেই থেমে যাচ্ছে অনেক দোকান। তবু চলছে স্থানীয় ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা।
Big Size Jalebi: দাম বেড়েছে, কমেছে বরাত
ভাদ্র সংক্রান্তি, ভাদু উৎসব এবং বিশ্বকর্মা পুজো উপলক্ষ্যে প্রতিবছরই বাঁকুড়ার কেঞ্জাকুড়ায় এই জাম্বো জিলিপি তৈরি হয়। শুধু বাঁকুড়া নয়, রাঢ় বাংলার বিভিন্ন প্রান্তেই এই জিলিপির চাহিদা থাকে। এমনকি বিহার, ঝাড়খণ্ড ও ওডিশার বিভিন্ন জায়গা থেকেও আগাম অর্ডার আসে।
তবে এ বছর ছবিটা কিছুটা আলাদা। চিনির দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার পাশাপাশি জিলিপি তৈরির প্রায় সব কাঁচামালের দামই বেড়েছে। ফলে বেড়েছে জিলিপির বিক্রির দামও। আর দাম বাড়তেই অনেক ক্রেতা আগের তুলনায় কম জিলিপি কিনছেন। সেই সঙ্গে কমেছে আগাম বরাত।কারিগরদের মতে, মূল্যবৃদ্ধির জেরেই এবার জাম্বো জিলিপির ব্যবসায় মন্দার ছাপ স্পষ্ট।
পরিস্থিতি সামলেও এখনও অটুট ঐতিহ্য
আকার ছোট হলেও কেঞ্জাকুড়ার জাম্বো জিলিপির প্রতি মানুষের টান কিন্তু এখনও কমেনি। বিশ্বকর্মা পুজো ও ভাদু পুজোর আগের দিন থেকেই দোকানগুলিতে ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ছে। জিলিপি কিনতে লাইনও পড়ছে। তবে ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, অন্য বছর এই ভিড় প্রায় দ্বিগুণ থাকত। এখন চাহিদা অনেকটা কমেছে।
জগন্নাথের প্রসাদে ভেজাল, পুরীতে কারখানায় নষ্ট ৪ কুইন্টাল খাজা
তবে শুধু আকার নয় কারিগরেরা বলছেন, এই জিলিপি তৈরিতেও রয়েছে নিজস্ব বিশেষত্ব। বেসন, ময়দা ও চালের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি হয় কেঞ্জাকুড়ার এই বিখ্যাত জাম্বো জিলিপি। এতে কোনও কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয় না। তেলে ভাজার সময় কারিগরদের দক্ষ হাতেই জিলিপিতে আসে সেই চেনা লালচে-সোনালি রং। (Big Size Jalebi)
প্রথা আর পরম্পরা মেনে আজও কেঞ্জাকুড়ার মানুষ নিজেদের বাড়ির জন্য যেমন এই জিলিপি কিনছেন, তেমনই আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতেও পাঠাচ্ছেন। কিন্তু একসময় ১৫-২০ কেজির বিশাল জিলিপি থেকে এখন দুই-আড়াই কেজির জিলিপিতে এসে দাঁড়ানোয় প্রশ্ন উঠছে, কেঞ্জাকুড়ার এই ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির সেই পুরনো জৌলুস কি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে? আর কয়েকবছর পর এই জিলিপি কি আদৌ তৈরি করবেন বিক্রেতারা?









