দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের পদ্মপুকুর এলাকায় দুটি গোডাউন থেকে বিপুল পরিমাণ কম্বল ও ত্রিপল উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি সামনে আসতেই এলাকায় শোরগোল ছড়িয়ে পড়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলি সরকারি ত্রাণের জন্য বরাদ্দ ছিল কি না এবং সেগুলি কেন দীর্ঘদিন ধরে গোডাউনে মজুত করে রাখা হয়েছিল তা নিয়ে উঠতে শুরু করেছে একাধিক প্রশ্ন। পুরো ঘটনার তদন্তে নেমেছে বারুইপুর থানার পুলিশ। (Baruipur Godown Raid)
BJP-র দাবি, বারুইপুর পশ্চিম ১ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি গৌতম চক্রবর্তীর কাছে স্থানীয় সূত্রে খবর আসে যে পদ্মপুকুর এলাকার দুটি আলাদা গোডাউনে বিপুল পরিমাণ কম্বল ও ত্রিপল জমা করে রাখা হয়েছে। খবর পাওয়ার পর তাঁর নির্দেশে BJP-র একদল কর্মী সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তাঁদের অভিযোগ, গোডাউনের ভিতরে ঢুকে তাঁরা বিপুল পরিমাণ কম্বল ও ত্রিপল দেখতে পান, যার অনেকগুলিতেই ২০২৪-২৫ সালের ট্যাগ লাগানো ছিল। ফলে ওই সামগ্রীগুলির উৎস এবং ব্যবহারের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। (Baruipur Godown Raid)
ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও ঘটনাস্থলে ভিড় জমান। পরিস্থিতি সামাল দিতে বারুইপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন থানার সাব-ইন্সপেক্টর শ্যামল চক্রবর্তী। BJP সূত্রের দাবি, পুলিশের উপস্থিতিতে গোডাউনে থাকা কম্বল ও ত্রিপলের সংখ্যা গণনা করা হয় এবং পরবর্তী তদন্তের স্বার্থে দুটি গোডাউনই সিল করে দেওয়া হয়। (Baruipur Godown Raid)
এই ঘটনায় বিজেপি সরাসরি অভিযোগ তুলেছে গৌতম দাস নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তাঁদের দাবি, তিনি বারুইপুর পুরসভার পুরপ্রধান এবং বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা এলাকার তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। BJP-র অভিযোগ, ওই গোডাউনগুলির সঙ্গে গৌতম দাসের যোগ থাকতে পারে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত গৌতম দাস বা তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। (Baruipur Godown Raid)
ঘটনার জেরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। BJP-র প্রশ্ন, যদি উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলি সত্যিই ত্রাণের জন্য নির্ধারিত হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছনোর বদলে কেন গোডাউনে মজুত করে রাখা হয়েছিল। অন্যদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া কম্বল ও ত্রিপলের উৎস, মালিকানা এবং সেগুলি সংরক্ষণের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের রিপোর্ট সামনে এলে গোটা বিষয়টি নিয়ে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। (Baruipur Godown Raid)
আরও পড়ুন : গ্রেফতার বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্ত, মেডিক্যাল পরীক্ষার সময় ছোড়া হলো ডিম-টম্যাটো










