নদীর খাঁড়িতে মাছ, কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের প্রাণ হারানোর খবর মাঝেমধ্যেই উঠে আসে। জঙ্গলে বাঘের হামলায় প্রাণ হারানোর ঘটনা নতুন নয়। অথচ অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রেই নিহত মৎস্যজীবীদের পরিবার প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ থেকেও বঞ্চিত হন। এবার তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নতুন উদ্যোগ নিল মৎস্যজীবীদের সংগঠন। বাঘের হামলায় নিহত মৎস্যজীবীদের ‘শহিদের’ মর্যাদা দিয়ে তাঁদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করার সিদ্ধান্ত নিল। তাঁদের স্মরণে সুন্দরবনে তৈরি হলো প্রথম শহিদ বেদী (Sundarban)।
Sundarban: বাঘের মুখ থেকে ছাড়িয়ে আনলেন স্ত্রীকে
দিন কয়েক আগেই সুন্দরবনের জঙ্গলে স্বামী গৌতম দাসের সঙ্গে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলির ভুবনেশ্বরীর বাসিন্দা বন্দনা দাস। মাছ ধরার কাজের পাশাপাশি নৌকতেই রান্না করছিলেন বন্দনা। সেই সময় আচমকাই জঙ্গল থেকে একটি বাঘ ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁকে টেনে নিয়ে যায়। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে গৌতম দাস বাঘের মুখ থেকে স্ত্রীকে কোনক্রমে ছাড়িয়ে আনতে সক্ষম হলেও শেষ পর্যন্ত বন্দনা দাসকে বাঁচানো যায়নি।
তিনি বলেন, “আমার স্ত্রী ১০ বছর ধরে আমার সঙ্গে যাচ্ছিলেন মাছ ধরতে। এর আগে কখনও এমনটা হয়নি। আমরা বাঘ দেখি। বাঘ নদী পার করে চলে যায় কিন্তু এই রকম দৃশ্য কখনও দেখেনি। পাশের নৌকা করে আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে আসি। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ।”
এই মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতিকে স্মরণে রাখতে ভুবনেশ্বরীতে বন্দনা দাসের বাড়ির পাশেই নদীর ধারে গড়ে উঠেছে সুন্দরবনের প্রথম শহীদ বেদী। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, জীবিকার তাগিদে প্রাণ হারানো মৎস্যজীবীদের যথাযোগ্য সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই শহিদ বেদী শুধু বন্দনা দাসের স্মৃতিকেই বহন করবে না, ভবিষ্যতে বাঘের হামলায় প্রাণ হারানো সমস্ত মৎস্যজীবীদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের প্রতীক হয়ে থাকবে।








