রাজ্যে নতুন সরকারের হাত ধরে আজ থেকেই বাংলায় কার্যকর হয়ে গেল ‘গুন্ডা দমন আইন'(Anti Social Activities Bill)। বিক্ষোভ-প্রতিবাদের নামে সরকারি বা ব্যক্তিগত সম্পত্তি নষ্ট করলে এবার থেকে কড়া পদক্ষেপ নিতে পারবে রাজ্য সরকার। ‘ভরসা ইন, ভয় আউট’। এবার সেই ভরসাই ঠিক কতটা? সেটাই এই বিশেষ আইনে বোঝা যাবে। এই আইনের অধীনে বিশেষ কোন ভুলে গ্রেফতার হতে হবে? কী রয়েছে এই আইনে?
এই আইন অনুযায়ী, যে কোনও সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি নষ্টের ক্ষেত্রে এবার থেকে গুন্ডাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তও করতে পারবে সরকার।
এই আইনে ‘গুন্ডা’ বা ‘সমাজবিরোধী’ কারা?
১. জোরপূর্বক জমি বা বাড়ি দখল, তোলাবাজি এবং সিন্ডিকেট রাজ চালানো ব্যক্তি।
২. বেআইনি বালি খনন, কয়লা বা পাথর পাচার এবং বনজ সম্পদ ধ্বংসকারী।
৩. অস্ত্র আইন, মাদক আইন (NDPS), অনৈতিক পাচার এবং বিস্ফোরক আইনের অধীনে অভিযুক্ত অপরাধীরা।
৪. বড় ধরনের সাইবার ক্রাইম এবং বড় আর্থিক জালিয়াতির সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা।
৫. হিংসাত্মক আন্দোলন ও দাঙ্গার নামে সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগকারী।
কারা সুবিধা পাবেন?
সাধারণ নাগরিক: তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজের হাত থেকে ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ মুক্তি পাবেন। শান্তিতে নিজেদের জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।
উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী: ভয় বা হুমকি ছাড়াই বাংলায় শিল্প ও ব্যবসা সচল রাখা সম্ভব হবে।
মহিলা ও শিশু: মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই আইন রাজ্যে মহিলা ও শিশুদের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা নেবে।
সরকারি প্রশাসন ও পুলিশ: আইনশৃঙ্খলার দ্রুত ও কঠোর নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিপদে কারা পড়বেন?
দাগী অপরাধী: যারা নিয়মিত গ্যাং বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সমাজবিরোধী কাজ পরিচালনা করে।
দাঙ্গাবাজ ও উস্কানিদাতা: যারা ক্ষোভ-বিক্ষোভের নেমে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করে বা পুলিশকে আক্রমণ করে। শুধু সরাসরি যুক্ত ব্যক্তি নয়, আন্দোলনের অর্থ জোগানদাতা ও উস্কানিদাতারাও রেহাই পাবেন না।
রাজনৈতিক হিংসা ছড়ানো: মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে বিগত বছরগুলিতে যারা রাজনৈতিকভাবে গুন্ডামি করে গেছেন, তাদের এই আইনের মাধ্যমে জব্দ করা হবে।
কী শাস্তি এবং আইনি ব্যবস্থা হবে?
১. কোনও অপরাধ ঘটার আগেই, শুধুমাত্র অশান্তি বা অপরাধের চক্রান্তের সামান্য আঁচ পেলে (আশঙ্কা তৈরি হলে), পুলিশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কোনও ওয়ারেন্ট ছাড়াই সরাসরি গ্রেফতার করতে পারবে। বিনা বিচারে ওই অভিযুক্তকে সর্বোচ্চ ১২ মাস বা ১ বছর পর্যন্ত আটকে রাখা যাবে।
২. দাঙ্গা বা উগ্র আন্দোলনের নামে সরকারি বা ব্যক্তিগত সম্পত্তি ভাঙচুর করা হলে, অভিযুক্তের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং নিলাম করে সেই ক্ষতিপূরণ উশুল করা হবে। ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য একটি বিশেষ ‘ক্লেম কমিশন’ গঠিত হচ্ছে।
৩.জেলাশাসক (DM),পুলিশ কমিশনার বা ডিআইজি (DIG) পদমর্যাদার আধিকারিকেরা চাইলে কোনো দাগী অপরাধীকে অনধিক এক বছরের জন্য নির্দিষ্ট কোনো এলাকা বা সমগ্র জেলা থেকে বহিষ্কার করার নির্দেশ দিতে পারবেন।
৪. এই আইনের আওতাধীন সমস্ত অপরাধকে সম্পূর্ণভাবে জামিন-অযোগ্য (Non-bailable) করা হয়েছে। যার ফলে অপরাধীদের সহজে জামিন পাওয়া কঠিন হবে।
আইনটির (Anti Social Activities Bill) অপপ্রয়োগ রুখতে এবং নজরদারির জন্য কলকাতা হাইকোর্টের বর্তমান বা প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বে একটি ‘অ্যাডভাইজারি বোর্ড’ বা পরামর্শদাতা বোর্ড গঠন করা হবে। পুলিশ কোনো ব্যক্তিকে আটক করার ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের অনুমোদন নিতে হবে এবং ৩ সপ্তাহের মধ্যে এই বোর্ড পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। বোর্ড যদি মনে করে আটকের কারণ যথেষ্ট নয়, তবে ওই ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া হবে। তবে গুরুতর ক্ষেত্রে অভিযুক্তরা নিজেদের পছন্দের আইনজীবী রাখার ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধের সম্মুখীন হতে পারেন।










