গভীর রাতে দমদম জংশন স্টেশন চত্বরে রেলের উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে ছড়ালো ব্যাপক উত্তেজনা। ঘটনার একাধিক ছবি, ভিডিয়ো ইতিমধ্যে সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে বুলডোজার চালিয়ে স্টেশন চত্বরে থাকা একাধিক হকারের দোকান ভেঙে ফেলা হয়। এর জেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন হকাররা।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বামপন্থী শ্রমিক সংগঠন সিটুর নেত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায়-সহ সিপিএম এর একাধিক নেতা-কর্মী। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দিনের অন্যান্য সময়ের তুলনায় গভীর রাতে দমদম স্টেশন অনেকটাই ফাঁকা ছিল। হাতে গোনা কয়েকজন যাত্রী ছাড়া সেখানে তেমন ভিড় ছিল না। সেই সময়েই এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়। (Hawkers Eviction)
হকারদের দাবি, গার্গী চট্টোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর আগেই বুলডোজার চালিয়ে বেশ কয়েকটি দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযানের সময় স্টেশন চত্বরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিও নজরে আসে। বাম নেতৃত্বের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় ব্যবহৃত সাঁজোয়া গাড়িও সেখানে মোতায়েন করা হয়েছিল।
বাম নেতাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসা হকারদের কোনও বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার ও রেল কর্তৃপক্ষ অসহায় হকারদের উপর অন্যায়ভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। (Hawkers Eviction)
অন্যদিকে, রেল সূত্রে জানা গিয়েছে ওই সংশ্লিষ্ট দোকানগুলিকে নাকি আগে থেকেই নোটিস দেওয়া হয়েছিল। রেলের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান সরাতেই এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজ্যে পরিবর্তনের পর থেকেই বিভিন্ন অবৈধ নির্মাণ ভাঙা এবং রাস্তার ধারে বা স্টেশন চত্বরে অবৈধ দোকানপাট তুলে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যে ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছে হাওড়া এবং শিয়ালদা স্টেশন সংলগ্ন এলাকা। এবার উচ্ছেদ অভিযান চলল দমদম স্টেশনেও। এই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তুঙ্গে।
বেলেঘাটা থেকে কসবা কলকাতায় একের পর এক বেআইনি নির্মাণে বুলডোজার
এদিন হকারদের সমর্থনে আন্দোলনে সামিল হন প্রাক্তন সাংসদ তড়িৎ বরণ তপাদার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সোমনাথ ভট্টাচার্য, তরুণ নাহা রায়, দেবাংশু নন্দী, কল্লোল মুখোপাধ্যায়, সুশান্ত দেব-সহ বামপন্থী নেতৃত্বের আরও অনেকে। তাঁদের বক্তব্য, হকারদের জীবিকা রক্ষার লড়াই চলবে এবং এই উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। তবে এই ঘটনায় রেলের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এই উচ্ছেদের ঘটনাকে সামনে রেখেই বাম নেতৃত্ব সকল হকারকে একজোট হয়ে এই ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি বিজেপি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তারা জানিয়েছে, হকারদের পুনর্বাসন ছাড়া এই উচ্ছেদ অভিযান চলতে থাকলে তার ফল ভালো হবে না। (Hawkers Eviction)










