জোড়া ফুল শিবির দুই দলে ভাগ হওয়ার পর থেকেই মমতাপন্থী তৃণমূলের মধ্যে অস্থিরতা এখন তুঙ্গে। এই আবহে গতকাল মঙ্গলবার পালিত হয়েছে এক ভিন্ন ২১ জুলাই। সব বাধা বিপত্তি পেরিয়েও মমতার একুশের সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন বেশ কিছু নেতাকর্মীরা। এদিন মঞ্চে বক্তৃতা রেখেছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Kalyan Banerjee)। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসে কল্যাণকে তাড়াতাড়ি তাঁর বক্তৃতা শেষ করার নির্দেশ দেন। আর এর পরই তড়িঘড়ি বক্তব্য শেষ করে নেত্রীর ভাষণ না শুনেই মঞ্চ ছাড়েন কল্যাণ। দুজনের মধ্যে খানিক কথা কাটাকাটিও হয়। এরপর আজ বুধবার নিজের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
Kalyan Banerjee: কল্যাণের গলায় অভিমানের সুর
এদিন তিনি বলেন, ‘নেত্রীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো। তবে নেত্রী আবার কখনও কখনও আমাকে দূরেও সরিয়ে দিয়েছে। নেত্রীর সুসময় আমি দূরে, আর দুঃখের সময় আমি কাছে। নেত্রীর সুখের সময় অরূপ বিশ্বাস, ববি হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সুদীপ বসু সবাই পাশে ছিল। কিন্তু নেত্রীর খারাপ সময় আমি একা পাশে রয়েছি।’ এরপরই বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন তিনি। বলেন, ‘আর জি কর কাণ্ডের সময় দলেরই কেউ নেত্রীকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরাতে চেয়েছিল। সেদিন আমি আর কুণাল শুধু দিদির পাশে ছিলাম।’ তবে কে সেই গদ্দার সেবিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি কল্যাণ।
অভিষেককে নিশানা কল্যাণের
এরপরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে নিশানা করে তিনি বলেন, ‘বাংলার কোটি কোটি মানুষের সমর্থনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেত্রী হয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। কোনও রক্তের সম্পর্কের জেরে নয়। সেই লড়াইয়ের দীর্ঘকাল সঙ্গী হয়ে ছিলাম। নিজের জীবন, যৌবন, পেশা, সংসার সবই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য ত্যাগ করেছি। এখন বাংলার মানুষের পাশে থাকতে হবে, গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। শুধু অভিষেক, অভিষেক করলে হবে না। আমরা ৮০ জন আর ২০ জনের মতো নয়। মানুষ আমাকে ভালোবাসে।’
উল্লেখ্য, গতকাল ২১ জুলাইয়ের সভা থেকেও নেত্রীর বক্তব্য না শুনে মঞ্চ ছাড়ার পর থেকেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল তাহলে কি এবার তিনিও মমতার পাশ থেকে চলে যাবেন? এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) বললেন, ‘কাল থেকে অনেকে ম্যাসেজ করে অনুরোধ করছে দাদা দল ছেড়ে যাবেন না। আমি যাব কেন? আমি বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ব। দরকার হলে দলে থেকে ঝগড়া করে লড়ব।’
লোকসভায় সাসপেন্ড কল্যাণ, বিধানসভাতে মার্শাল ডেকে বার কুণালকে
এরপরই গতকালের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কেউ তো দিদিকে আগে থেকে জানিয়েছিল যে আমি নাকি ১ ঘণ্টা ধরে বক্তৃতা দিচ্ছি। তারপর দিদি এসে আমায় ঘড়ি দেখিয়ে বলেন সে কথা। তাঁর এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবহারে অপমানিত বোধ করেছেন তিনি। এরপরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বলেন, ‘শুধু অভিষেক আর ডেরেক এর কথায় দল চলবে না। যে লড়াই করে তাঁকে সর্ব সমক্ষে স্বীকৃতি দিতে হবে।’
দিদির হাতেই শেষ হবে দলকল্যাণের প্রশ্ন, ‘যাদের দিদি এত বড় বড় নেতা মন্ত্রী মনে করছেন তাঁরা গত দুমাস কোথায় ছিলেন?’ কল্যাণের কথায়, ‘বাংলার মানুষ এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই তাকিয়ে আছেন। দিদির জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত আমিও আছি কিন্তু দিদিকেও বাস্তবটা বুঝতে হবে। দিদি যদি সেটা না বোঝে তাহলে দিদির হাতে তৈরি করার দল তাঁর হাতেই শেষ হবে’ বলে দাবি কল্যাণের।’










