গণতন্ত্রের উৎসবের দিনেই মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকল পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর। ভোট দিয়ে বাড়ি ফেরার পথেই মৃত্যু হলো এক মহিলা ভোটারের। মৃতার নাম ইসরাতন বিবি, বয়স ৫৬। তিনি কেশপুর ব্লকের ১২ নম্বর সরিষাখোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের ২২৫ নম্বর দীঘাভূত বুথের ভোটার এবং সীমাগেরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামীর নাম শেখ মহব্বত আলি। (Voter Died)
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ইসরাতন বিবির পরিবারে মোট চারজনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়। শুধুমাত্র তাঁর নামই তালিকায় ছিল। এই বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক চাপে ছিলেন তিনি। মৃতার স্বামী জানান, ভোটের আগের দিন থেকেই প্রতিবেশীদের কেউ কেউ নানা মন্তব্য করছিলেন। কেউ বলছিল বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে, কেউ আবার অন্য ধরনের আতঙ্ক তৈরি করছিল। এই সমস্ত কথাবার্তায় ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তাঁর স্ত্রী।
ভোটের দিন সকালে স্ত্রীকে নিয়ে বুথে যান মহব্বত আলি। ইসরাতন বিবি ভোটও দেন। কিন্তু বাড়ি ফেরার পথেই আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, অতিরিক্ত মানসিক চাপই এই মৃত্যুর কারণ। (Voter Died)
ঘটনার খবর পেয়ে মৃতার বাড়িতে যান কেশপুরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী শিউলি সাহা। তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘একজন মানুষের জন্ম এই বাংলায়, কেশপুরে, তবুও কেন পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেল, তার জবাব কমিশনকে দিতে হবে।’ তাঁর দাবি, এই ধরনের প্রশাসনিক গাফিলতিই সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলছে। (Voter Died)
তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও চিকিৎসকদের রিপোর্টের উপর নির্ভর করছে। রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেও একটি প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে— ভোটের মতো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কি সাধারণ মানুষের কাছে ভয় ও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে? এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। (Voter Died)










1 thought on “Voter Died: পরিবারের নাম বাদ যাওয়ায় চিন্তা! ভোট দিয়ে ফেরার পথেই মৃত্যু বৃদ্ধার”