বই বিক্রির স্টল ঘিরে ফের উত্তেজনা রাজ্যে। (SUCI Book Stall Attack) এবার নদিয়ার কৃষ্ণনগর শহরতলির পোস্ট অফিস মোড়ে SUCI(C)-এর বই বিক্রির স্টলে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। চেয়ার ভাঙা থেকে শুরু করে বই ছিঁড়ে ফেলা, কর্মীদের ধাক্কাধাক্কি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে অষ্টমীর সন্ধ্যায় চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। গুরুতর অভিযোগ, পুলিশের সামনেই এই ঘটনা ঘটলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বামেদের বুকস্টলে হামলার অভিযোগের মধ্যেই এবার বুকস্টলে হামলে ঘটনার নিন্দায় সরব হলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।
Table of Contents
কৃষ্ণনগরে বুকস্টল ভাঙচুরের অভিযোগ

অষ্টমীর সন্ধ্যায় কৃষ্ণনগর শহরতলির পোস্ট অফিস মোড়ে SUCI(C)-এর বই বিক্রির স্টল ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়।(SUCI Book Stall Attack) অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা স্টলের চেয়ার ভেঙে রাস্তায় ফেলে লাথি মারে। বই, পোস্টার, প্যান্ডেলের কাপড়-সহ বিভিন্ন সামগ্রী নষ্ট করা হয়। বাম কর্মীদের ধাক্কাধাক্কি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ঘটনার পর অফিস চত্বরজুড়ে বাম সহযোগী সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ।
‘পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকেও বাধা দেয়নি’
SUCI(C)-এর নেতাদের অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকলেও হামলাকারীদের আটকাতে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁদের। বরং পুলিশ স্টল সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেছে বলেও অভিযোগ। তাঁদের বক্তব্য, “এটা কি পশ্চিমবঙ্গ? যেখানে মানুষ বইও বিক্রি করতে পারবে না! কোনও মুক্ত চিন্তার জায়গা নেই।” (SUCI Book Stall Attack)
তাঁদের আরও অভিযোগ, স্টলে বাংলার মনীষীদের বই ছিল। হামলায় চেয়ার-টেবিল ভাঙার পাশাপাশি বই ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। গত ১৪ তারিখ স্টল বসানোর অনুমতি নেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে থানার আইসিকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছিল বলেও দাবি SUCI(C) নেতাদের। তা সত্ত্বেও কেন এমন ঘটনা ঘটল, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
বুকস্টলে হামলার নিন্দায় স্বপন দাশগুপ্ত

এদিকে, বামেদের বুকস্টল ভাঙচুরের ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। অষ্টমীর সকালে মণ্ডপে অঞ্জলি দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “বামেদের বুকস্টলে হামলা নিন্দনীয়। মাথা নত করে দিয়েছে।” তাঁর বক্তব্য, একাধিক জায়গায় এই ধরনের ঘটনা ঘটায় বিষয়টি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, “বামেদের সঙ্গে আমাদের একটা নৈতিক বিভেদ আছে। কিন্তু তা বলে বই বিক্রি করতে দেবে না? তারা কারা? কে এই অধিকার দিয়েছে? এটা নিন্দনীয়। আমি লজ্জিত। এটা যেন কোনওদিন না হয়।” বিজেপির বিরুদ্ধে বুকস্টল ভাঙচুরের অভিযোগ প্রসঙ্গে তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, “আমাদের নামে এগুলো করছে কে? কে সাহস দিয়েছে তাঁদের?” (SUCI Book Stall Attack)
মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন শতরূপের
সম্প্রতি সপ্তমীর রাতে যাদবপুরে বামেদের দু’টি বুকস্টল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছিল। কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পুজোমণ্ডপের সামনে বামেদের বই বিক্রির স্টল ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই স্বপন দাশগুপ্তের এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ।
অন্যদিকে, বাম নেতা শতরূপ ঘোষের অভিযোগ, বিধানসভার ভিতর থেকেই এই পরিস্থিতির সূত্রপাত। তাঁর দাবি, প্রায় এক মাস আগে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, পুজোয় বামেদের বুকস্টল করতে দেওয়া হবে না। সেই সময় বিধানসভায় উপস্থিত থেকেও স্বপন দাশগুপ্ত কেন প্রতিবাদ করেননি, সেই প্রশ্ন তুলেছেন শতরূপ। কৃষ্ণনগরের ঘটনায় প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে। (SUCI Book Stall Attack)











1 thought on “কৃষ্ণনগরে SUCI-র বুকস্টলে হামলা, বুকস্টলে হামলায় নিন্দায় সরব অর্থমন্ত্রী”
Comments are closed.