স্মার্টফোনে সিম কার্ড না থাকলেও WhatsApp বা টেলিগ্রাম ব্যবহার করেন? তাহলে ২০২৭ সালের শুরু থেকে বদলে যেতে পারে আপনার অভ্যাস। (SIM-Binding Rules) কেন্দ্রীয় টেলিকম দফতরের (DoT) নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, মেসেজিং অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সক্রিয় সিম কার্ডের সংযোগ বজায় রাখা বাধ্যতামূলক হতে চলেছে। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে এই নিয়ম কার্যকর করার প্রস্তুতি শেষ করতে হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে। কিন্তু ঠিক কী পরিবর্তন আসছে? WhatsApp Web বা সিম ছাড়া ট্যাবলেট ব্যবহারেও কি পড়বে প্রভাব?
Table of Contents
কী এই SIM Binding নিয়ম?
এত দিন WhatsApp-এর মতো অ্যাপে মোবাইল নম্বর যাচাই করে অ্যাকাউন্ট চালু করার পর সংশ্লিষ্ট সিম খুলে ফেললেও পরিষেবা ব্যবহার করা যেত। ল্যাপটপ, ট্যাবলেট বা অন্য লিঙ্ক করা ডিভাইস থেকেও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা সম্ভব ছিল। (SIM-Binding Rules) নতুন নিয়মে অ্যাকাউন্টে ব্যবহৃত নম্বরের সঙ্গে যুক্ত সক্রিয় সিমের সংযোগ বজায় রাখতে হবে। সিম খুলে ফেললে বা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে পরিষেবা ব্যবহারে বাধা আসতে পারে।
WhatsApp, টেলিগ্রাম, সিগন্যাল, স্ন্যাপচ্যাট, শেয়ারচ্যাট, জিওচ্যাট, Arattai এবং জোশ-সহ একাধিক প্ল্যাটফর্মকে এই নির্দেশের আওতায় আনা হয়েছে।
কেন এই কড়া পদক্ষেপ কেন্দ্রের?
(SIM-Binding Rules) কেন্দ্রের দাবি, সিম ছাড়াই অ্যাকাউন্ট চালু রাখার সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতারকেরা ফিশিং, পরিচয় জালিয়াতি, বিনিয়োগের নামে প্রতারণা এবং ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর মতো অপরাধ করছে। ভারতীয় নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট যাচাই করার পরেও বিদেশ থেকে সেগুলি পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। এতে অপরাধীদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। টেলিকম দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতে সাইবার প্রতারণায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২২,৮০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছিল।
WhatsApp Web-এও কি বদলাবে নিয়ম?
প্রাথমিক নির্দেশে WhatsApp Web-সহ ওয়েব পরিষেবায় সর্বোচ্চ ছ’ঘণ্টা অন্তর লগ-আউট এবং QR কোড স্ক্যান করে পুনরায় সংযোগের কথা বলা হয়েছিল। তবে পরবর্তী নির্দেশনায় লগ-আউটের সময়সীমা ঝুঁকি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে নির্ধারণের কথা জানানো হয়েছে। তাই ছ’ঘণ্টার নিয়মকে সর্বক্ষেত্রে কার্যকর চূড়ান্ত সময়সীমা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
ব্যবহারকারীদের কী করতে হবে?
Wi-Fi-নির্ভর ট্যাবলেট, সিমবিহীন দ্বিতীয় ফোন কিংবা একাধিক ডিভাইসে মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহারকারীদের সমস্যা হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট নম্বরের সিম সক্রিয় রাখুন। এই নির্দেশের অর্থ WhatsApp বা Telegram ভারতে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, এমন নয়। বরং সাইবার অপরাধ রুখতে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে আরও কড়াকড়ি আনাই লক্ষ্য। বাস্তবে কতটা প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করবে সংস্থাগুলির নিয়ম কার্যকরের পদ্ধতির উপর। (SIM-Binding Rules)
উৎসবের মরশুমে বড় ধাক্কা, এক লাফে দুই ফোনের দাম বাড়াল OPPO











