ওড়িশায় কাজে গিয়ে ফের হেনস্তার অভিযোগ তুললেন বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা (Migrant Labour)। নদিয়ার শান্তিপুরের বাসিন্দা সুজয় পাল, যিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে ওড়িশার গঞ্জম জেলার ভঞ্জনগরে হকারির কাজ করছেন, অভিযোগ করেছেন যে পুলিশ তাঁদের উপর অমানবিক আচরণ করছে। তাঁর দাবি, মাঝরাতে বাড়িতে হানা দিয়ে দরজায় লাথি মেরে পুলিশ ধরপাকড় চালায় এবং কয়েকজন শ্রমিককে বাংলাদেশি রোহিঙ্গা সন্দেহে তুলে নিয়ে গিয়ে জেলে বন্দি করা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, আধার, ভোটার কার্ডসহ সমস্ত বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাঁদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। গত কয়েক মাস ধরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে জানান সুজয়। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা। বিষয়টি সামনে আসতেই নদিয়ায় তাঁর পরিবার চরম উদ্বেগে রয়েছে। মা-বাবা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক এবং প্রয়োজনে বাড়ি ফিরিয়ে আনা হোক।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী রবিবার থেকে রাজ্যে চালু যুবসাথী প্রকল্পের রেজিস্ট্রেশন ক্যাম্প
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যার জন্য রাজ্যের শাসক দল দায়ী এবং প্রয়োজনে ওড়িশা পুলিশের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অন্যদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালিদের উপর অত্যাচার বাড়ছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ভিন রাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের উপর হামলার একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে, যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সুজয় পালের ঘটনার পর আবারও প্রশ্ন উঠছে—ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত? প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দ্রুত সমাধানের দাবি জোরালো হচ্ছে।










