রাজ্যে ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্ক, আজানের শব্দ নিয়ন্ত্রণ, কুরবানির পশু এবং লাউডস্পিকার ইস্যু নিয়ে ফের সরব হলেন নওশাদ সিদ্দিকি (Naushad Siddique)। শুক্রবার বিধানসভায় এসে একাধিক স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে মন্তব্য করেন ISF বিধায়ক। বিশেষ করে লাউডস্পিকার ও শব্দদূষণ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নওশাদ সিদ্দিকি (Naushad Siddique) স্পষ্ট বলেন, “আমার সঙ্গে কোনও বৈঠক করা হয়নি। দলে নেওয়া না নেওয়ার ব্যাপারে আমার একার মতামত নেই।” এরপরই তিনি ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্ক ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন।
নওশাদের দাবি, আজানের শব্দ নিয়ন্ত্রণ, কুরবানির পশু বা বুলডোজার রাজনীতি— এসব বিষয় নতুন নয়। তাঁর কথায়, “শব্দদূষণ তো আগেই আইন মেনে চলার কথা ছিল। ৬৫ ডেসিবেলের নিচে রাখতে হবে, সেটাও আগে থেকেই রয়েছে। কিন্তু এখন নতুন করে এসব বিষয়কে সামনে আনা হচ্ছে শুধু চরমপন্থীদের মনকে শান্তি দেওয়ার জন্য।”
লাউডস্পিকার বিতর্ক টেনে ISF বিধায়ক (Naushad Siddique) অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষের বাস্তব সমস্যা থেকে নজর ঘোরাতেই ধর্মীয় আবেগকে সামনে আনা হচ্ছে। তাঁর মতে, আইন অনুযায়ী শব্দ নিয়ন্ত্রণ হওয়াই স্বাভাবিক, কিন্তু নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
আরজি কর কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ, সাসপেন্ড তিন IPS অফিসার: Naushad Siddique: ‘লাউডস্পিকার’ ইস্যু তুলে চরমপন্থীদের তুষ্টির অভিযোগ, বিধানসভায় তোপ নওশাদেরবিধানসভায় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া প্রসঙ্গে নওশাদ বলেন, পরিষদীয় দল বিধানসভায় কী করবে বা করবে না, তা তাদের নিজস্ব এক্তিয়ারের বিষয়। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “রীতি-নীতি যেন বিসর্জন না দেওয়া হয়।”
এদিন বিজেপির ‘হিন্দু সংকট’ প্রসঙ্গ নিয়েও ব্যঙ্গ শোনা যায় তাঁর গলায়। কটাক্ষ করে তিনি (Naushad Siddique) বলেন, “দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, হিন্দুরা সংকটে, হিন্দুদের বাঁচাতে হবে!” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
একইসঙ্গে বিধানসভার খরচ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ভাঙড়ের বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, “সাড়ে দশ কোটি মানুষের জন্য ২৯৪ জন এসেছে। বিধানসভা চালাতে কোটি কোটি টাকা খরচ হয়। এটা জনগণের টাকা।” জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়েও তিনি পরোক্ষে সরকারকে নিশানা করেন।
রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে যখন ধর্মীয় মেরুকরণ ও শব্দদূষণ বিতর্ক নতুন করে চর্চায়, তখন নওশাদ সিদ্দিকীর (Naushad Siddique) এই বিস্ফোরক মন্তব্য রাজনৈতিক তরজা আরও বাড়াবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।











