ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের এনকাউন্টার করে নয়, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিচার হওয়া উচিত—বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এমনই বার্তা দিলেন জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহাতকর। শুক্রবার জন শুনানি কর্মসূচিতে এসে তিনি বলেন, ‘ন্যায়বিচার সবসময় নির্দিষ্ট আইনি পথ মেনেই হওয়া দরকার।’
উল্লেখ্য, গত ৫ জুলাই বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় অভিযুক্তের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয় এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়। তবে আদালতে বিচার শুরু হওয়ার আগেই অভিযুক্তের এভাবে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। (Baruipur Encounter)
এই প্রসঙ্গে বিজয়া রাহাতকর বলেন, ‘বারুইপুরের ঘটনা অত্যন্ত ভয়াবহ ও মর্মান্তিক। কোনও মেয়ের সঙ্গেই এমন ঘটনা হওয়া উচিত নয়। তবে ন্যায়বিচারের জন্য আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করাও জরুরি।’ তাঁর কথায়, ‘ন্যায়বিচার সবসময় সুনির্দিষ্ট আইনি পথেই হওয়া উচিত।’ ওই ঘটনায় ঠিক কী পরিস্থিতিতে পুলিশের পদক্ষেপ হয়েছিল, তা তাঁর জানা নেই বলেও জানান তিনি। তবে তাঁর বক্তব্য, পুলিশ দায়িত্বের সঙ্গেই কাজ করছে।
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও নতুন করে সামনে এসেছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের কথা বলতে গিয়ে বলেছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ধর্ষকদের আদালতে পাঠানো হবে না। সকালে তাদের ‘জমা’ নেওয়া হবে এবং বিকেলেই ‘খরচ’ করা হবে। যোগী আদিত্যনাথ ও হিমন্ত বিশ্বশর্মার দেখানো পথেই সরকার চলবে বলে দাবি করেছিলেন শুভেন্দু। বারুইপুরের অভিযুক্তের এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনায় সেই মন্তব্য ফের আলোচনায় এসেছে।
সেপ্টেম্বরেই আসছে iPhone 18? ফোল্ডেবল ফোনে চমক দিতে তৈরি Apple
এদিকে রাস্তা অবরোধ করে অশান্তির মামলায় গত ১২ জুলাই সিপিআইএম নেতা লাহেক আলিকে গ্রেফতার করেছিল বারুইপুর থানার পুলিশ। শুক্রবার আদালত তাঁকে আরও ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
এদিন আর জি করের ঘটনা নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানান বিজয়া রাহাতকর। তিনি বলেন, ঘটনাটি প্রত্যেকের হৃদয় নাড়া দিয়েছিল। নির্যাতিতার বাবা-মায়ের যন্ত্রণা কমিশন বুঝতে পারছে। ঘটনার পর কমিশন প্রথমে পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে এবং পরে বাবা-মায়ের বক্তব্য সিবিআইয়ের কাছে তুলে দেওয়া হয়। (Baruipur Encounter)
সব মিলিয়ে বারুইপুরের ঘটনায় অভিযুক্তের এনকাউন্টার নিয়ে যখন রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে বিতর্ক চলছে, তখন জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সনের এই বক্তব্যে ফের সামনে এল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—অপরাধ যতই গুরুতর হোক, ন্যায়বিচারের পথ সবসময় আদালত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হচ্ছে তো?











