রাত পোহালেই ভোট গণনা। তার আগেই হুগলির পান্ডুয়ায় রেলপাড় এলাকায় শুরু হলো উচ্ছেদ অভিযান (Pandua Rail Station)। শনিবার গভীর রাতে জেসিবি নিয়ে এলাকায় পৌঁছয় রেল কর্তৃপক্ষ। এরপর একে একে ভেঙে ফেলা হয় বহু দোকান, টিনের ঘর ও অস্থায়ী বাড়ি। হঠাৎ এই অভিযানে কার্যত মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে বহু পরিবারের।
নির্বাচন ঘোষণার আগেই রেলপাড় এলাকার বাসিন্দাদের উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই সময় কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ফের নতুন করে নোটিশ দেয় রেল। সেখানে মাত্র এক দিনের মধ্যে এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
(Pandua Rail Station) এত অল্প সময়ে অনেকেই কোনওরকমে নিজেদের জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে পারলেও বহু পরিবারের পক্ষে বিকল্প আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। শনিবার রাতেই আচমকা বুলডোজার নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। বহু মানুষকে খোলা আকাশের নীচে রাত কাটাতে হয়েছে।
ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, ভোটের আগে ইচ্ছাকৃতভাবে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রাখা হয়েছিল। তাঁদের দাবি, “ভোট মিটতেই আমাদের সরিয়ে দেওয়া হলো। কয়েকদিন সময় দিলে অন্তত থাকার একটা ব্যবস্থা করতে পারতাম।”
ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, সাধারণ মানুষের পুনর্বাসনের কোনও পরিকল্পনা ছাড়াই উচ্ছেদ চালানো হয়েছে। যদিও রেল কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।
(Pandua Rail Station) পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। তবে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে গৃহহীন পরিবারগুলির। বহু বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করা মানুষজন এখন পুনর্বাসনের দাবিতে সরব হয়েছেন।










