ধৃত তৃণমূল নেতাকে জোর করে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ কেন্দ্রীয় বাহিনীর। জওয়ানদের তাড়া খেয়ে শেষ পর্যন্ত নদীতে ঝাঁপ হামলাকারীদের, সাঁতার কেটে প্রাণ বাঁচালেন তাঁরা (Jahangir Khan)।
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই মল্লিকপুর এলাকায় জাহাঙ্গির খানের(Jahangir Khan)সমর্থক বলে দাবি করা একদল মহিলা জড়ো হতে শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ, জাহাঙ্গির খানকে গ্রেফতারের পর যেভাবে প্রকাশ্যে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানো হয়েছে, তা মানবিক মর্যাদার পরিপন্থী এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কার্যত এই ঘটনার প্রতিবাদেই তাঁরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। থানার গেট ঠেলে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করা হলে কর্তব্যরত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা বাধা দেন।
সপ্তাহখানেক আগে ‘পুষ্পা’-কে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ। পুলিশ সূত্রের খবর, নেপাল সীমান্ত পেরিয়ে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছিলেন জাহাঙ্গির। সেই সময়ই এসটিএফের জালে ধরা পড়েন জাহাঙ্গির। গোয়েন্দাদের কাছে আগে থেকেই তাঁর সম্ভাব্য গতিবিধি সংক্রান্ত তথ্য ছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালিয়ে তাঁকে পাকড়াও করা হয়। নেপালে গিয়ে নাকি সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করার পরিকল্পনাও করে ফেলেছিল জাহাঙ্গির।
২৬ এর বিধানসভা ভোটের মরশুমে একেবারে হিন্দি সিনেমার হিট সংলাপ ধার করে জাহাঙ্গির খান নিজেকে ফলতার ‘পুষ্পা’ বলে দাবি করেছিলেন। প্রকাশ্য বুক ঠুকে বলেছিলেন, ‘পুষ্পা রাজ, ঝুকেগা নেহি’। কিন্তু বিজেপি সরকার আসতেই পুষ্পা যে এভাবে ভিজে বেড়াল হয়ে যাবে তা ভাবা বেশ দুষ্কর হয়ে গিয়েছিল সকলের কাছে। যাঁর নামে গোটা ফলতা থরথর করে কাঁপত, সে এখন সাধারণ একটা হাফ প্যান্ট, বিধ্বস্ত চেহারা অবস্থাতেই ফলতার চেনা রাস্তায় কোমরে দড়ি বেঁধে পুলিশের ঘেরাটোপে ঘুরছে।
হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান মহিলারা। এমনকি কোমরে দড়ি বেঁধে এইভাবে জাহাঙ্গিরকে রাস্তায় ঘোরানো নিয়েও আপত্তি তুলছেন তাঁরা। যদিও এই নিয়ে প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।









