দিদির হাত ছেড়েছেন তাঁর প্রিয় ‘বালু’। তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক(Sajal ghosh)। শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে, একইদিনে শিলিগুড়ির মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা গৌতম দেব। পুর কমিশনারের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। আর এই নিয়েই শুরু হয়েছে জলঘোলা। রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদলকে বিঁধতে ছাড়ছে না বর্তমান শাসকদল। “একটা শীর্ষস্থানীয় চোর, ওমলেট হতে চাইছেন না বলেই ছেড়ে দিচ্ছেন।” জ্যোতিপ্রিয় ও গৌতম দেবের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ।
বিধানসভায় বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ বলেন, “একটা শীর্ষস্থানীয় চোর। চাল চোর বালু বলুন। আর ওমলেট হতে চাইছেন না বলেই ছেড়ে দিচ্ছেন। এরা আলাদা দিনে পদত্যাগ করলে সংবাদবাদমাধ্যমে বেশি ফুটেজ পেত। শনিবার-রবিবার এমনই খালি ছিল। দুর্নীতি থেকে বাঁচতে এখন পদত্যাগ করছে।”
বিজেপিতে যোগদান প্রসঙ্গে প্রশ্ন করতেই বিধায়ক বলেন(Sajal ghosh), “দরজা খুলে রাখলে এরা আর পদত্যাগ করত না। দরজা দিয়েই ঢুকে পড়ত। এইগুলো দলীয় সিদ্ধান্ত। অনেক বড়মাপের সিদ্ধান্ত। এইগুলো বলার ক্ষমতা আমার নেই। বলার অধিকারও আমার নেই।”
অন্যদিকে লোকসভায় আলাদা সংসদীয় দল বা ব্লক গড়ার ক্ষেত্রে যে সমস্ত আইনি ও প্রযুক্তিগত জটিলতা রয়েছে, তা এড়াতে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’র (Nationalist Citizen Party of India) সঙ্গে মিশে গেছেন তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ। এই নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিধায়ক সজল ঘোষও। তিনি বলেন, “এনসিপিআই। এর পুরো নাম কী? রেডিমেড পার্টি কিনেছে এরা। এদের নিয়ে আমাদের কোনও কৌতুহল নেই। আমরা শুধু মজা দেখছি।”
অন্যদিকে তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা নিয়ে অরূপ বিশ্বাসকে কটাক্ষ করে সজল ঘোষ বলেন, “টাকা সাধারণ মানুষের। লুঠের টাকার বখরা এখন সকলেই চায়। ওদের দলের টাকা ওদের দলের নেতারা তাঁরা নিজেদের ভাগ বাঁটোয়ারা করার জন্য ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করতে চাইছে। এই টাকা সাধারণের। ইডি এসে তদন্ত করুক। ইডি আধিকারিকেরা এসে ফ্রিজ করুক। যে কোম্পানি এদের টাকা দিয়েছে, তাঁরা কেন দিয়েছে, কিসের জন্য দিয়েছে তারও তদন্ত হোক।”
কলকাতায় জমা জলের সমস্যা নিয়ে সজল ঘোষ বলেন, “জমা জলের সমস্যা আছে। এই জমা জলের সমস্যার পিছনে বিজেপি বা রাজ্য সরকারের কোনও হাত নেই। আগামী দু-তিন বছরের মধ্যে শহর কলকাতায় জল জমলে তখন আপনি বিজেপির দিকে আঙুল তুলবেন। আগের মেয়রের ছবি পাননি বলে ভাববেন না যে পুরসভা কাজ করছে না। জল সরাতে পুরসভা কাজ করছে।”











