২১ জুলাই পালন নিয়ে তৃণমূলের দুই শিবিরেই দড়ি টানাটানির মধ্যেই, ২১ জুলাই নিয়ে নতুন করে টানাপোড়েন। সেই সঙ্গে অস্বস্তিতে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় এক যুগ পর সামনে এল ২১ জুলাইয়ের ঘটনা নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট। ২০১১ সালের ৪ নভেম্বর প্রাক্তন বিচারপতি সুশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তদন্ত কমিশনটি গঠন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। ১৯৯৩ সালে ২১ জুলাইয়ের ঘটনা নিয়ে ওই রিপোর্ট (Suvendu Adhikari)।
বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘কমিশনের প্রস্তাব মেনে হতাহতদের প্রয়োজনীয় আর্থিক সাহায্যও করেননি (Suvendu Adhikari)। নিহতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা করে দিতে বলেছিল কমিশন। কিন্তু তৎকালীন রাজ্য সরকার দিয়েছিল ২ লক্ষ টাকা করে। মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে সেই টাকা দেবে রাজ্য সরকার। কেউ চাইলে নতুন করে FIR দায়ের করা যেতে পারে। আমি সব তথ্য বের করেছি, সব সামনে আসব’।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী বলেন,”৫ লক্ষ টাকা আহতদের দেওয়ার কথা ছিল। ১৫ হাজার টাকা দিয়েছে। যাঁদের উপর দাঁড়িয়ে ডিমভাত উৎসব হতো, তাঁদের প্রতি এই অবিচার। সুশান্ত চ্যাটার্জী নিজে বলেছেন তাঁকে কোনও রিপোর্ট দেওয়া হয়নি।”
শুভেন্দু বলেন, “সবচেয়ে বড় সাক্ষী হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তখন কোনও সাক্ষ্য দিতে চাননি। বুদ্ধবাবুকেও যেমন প্রশ্ন পাঠানো হয়েছিল, তাঁকে প্রশ্ন পাঠাতে হতো তিনিও উত্তর দিয়ে দিতেন। কমিশনকে ভার্চুয়ালি উত্তর দিতে পারতেন। আমি এই রিপোর্ট পেশ করে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে বলব আপনারা আবার নতুন করে FIR করতে চান, সেই সুযোগ দেবে। আপনারা যদি চান সেই ক্ষতিপূরণ আমি দেব। আর যাঁরা আপনাদের ব্যবহার করে মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী হলেন,বিদেশে গেলেন তাঁদের থেকে আপনারা দূরে থাকবেন।”
২১ জুলাই নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধে আরও বলেন,”পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডাকা সত্বেও যাননি। ৪৪ জন সাক্ষী গিয়েছিলেন। তিনি জানেন তৎকালীন কমিশন এবং পুলিশের কিছু আধিকারীককে বাঁচানোর জন্য কাজ করছেন।”
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই কী হয়েছিল, তা প্রকাশ্যে আনতে কমিটি গঠন করেছিল তৎকালীন তৃণমূল সরকার। কিন্তু ১৫ বছরেও রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসেনি। সোমবার ৩৩ তম ২১ জুলাইয়ের প্রাক্কালে নিয়ম মেনে বিধানসভায় সেই রিপোর্ট পেশ করলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।










