আগামী ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট শুরু হচ্ছে। তার ঠিক দুদিন আগে থেকেই মোটরবাইকের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল নির্বাচন কমিশন। মূলত বাইক বাহিনীর দাপট রুখতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর থেকে এই নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে। কী কী রয়েছে এই নির্দেশিকায়?
ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে কোনওভাবেই বাইক র্যালি বা মোটরসাইকেল (West Bengal Assembly Election 2026) নিয়ে মিছিল করা যাবে না। সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরেরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত মোটরবাইক চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে জরুরি পরিষেবা বা চিকিৎসা পরিষেবা বা পারিবারিক বিপদের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় পাওয়া যাবে। শুধু তাই নয়, বাইকের পিছনে কোনও আরোহীকে বসানো যাবে না। তবে স্কুল পড়ুয়া বা রোগীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম শিথিল থাকবে।
ভোটের দিন (সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা) শুধুমাত্র পরিবার নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য বা জরুরি প্রয়োজনে পিছনে আরোহী বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অনুমতি ছাড়া বাইক চললেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি বিশেষ কোনও প্রয়োজনে কেউ ছাড় পেতে চান, তবে সংশ্লিষ্ট থানার থেকে লিখিত অনুমতি নিতে হবে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে এই নিয়মগুলি অত্যন্ত কড়াকড়িভাবে পালন করা হয়।
অনেক সময় একাধিক আরোহীকে বাইক বা দলবদ্ধভাবে চালানোয় ভোটারদের ভয় দেখানোর পাশাপাশি প্রভাবিত করার অভিযোগ ওঠে। এমনকি নগদ টাকা বা মদ নিয়ে ভোটে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। সরু গলি দিয়ে সহজে চলাচলের সুবিধা থাকায় বাইক অনেক সময় নজরদারি এড়িয়ে যেতে পারে।

তবে নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশিকা ঘিরে কিছু প্রশ্নও উঠছে। বিশেষ করে অ্যাপ-ভিত্তিক ডেলিভারি (West Bengal Assembly Election 2026) কর্মীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অনেক সুইগি, জোম্যাটোর মতো কোম্পানির কর্মীরা রাতেও খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেন। পাশাপাশি যারা চাকরি বা ব্যবসা করেন তারা কী করবেন সেটা নিয়ে কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশিকা নেই। ফলে বাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলে তাদের কাজের উপর বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা।











