দক্ষিণ চিনের গুয়াংজিতে ভয়াবহ বন্যা। প্রাণ হারালেন অন্তত ৩৯ জন। নিখোঁজ এখনও ৯ জন। ঘূর্ণিঝড় ‘ট্রপিক্যাল স্টর্ম মেসাক’ (Maysak)-এর প্রভাবে রেকর্ড পরিমাণে বৃষ্টিপাতের জেরে লিউলান জলাধারের বাঁধ ভেঙে এই বিপর্যয় ঘটে। যেখানে প্রায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে (southern china)।
দক্ষিণ চিনের প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘ট্রপিক্যাল স্টর্ম মেসাক’ (Maysak)-এর প্রভাবে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। পূর্বভাস অনুযায়ী, একই সময়ে টাইফুন ‘বাভি’নামে তাইওয়ান ও চিনের পূর্ব উপকূলে আরও একটি শক্তিশালী ঝড় আসতে চলেছে। ইতিমধ্যে সেই ঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, যা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সেখানে আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে (southern china)।
গুয়াংজি শহরের ভাইস-মেয়র ডিং ওয়ে সংবাদমাধ্যমে জানান, “মৃত্যুর ঘটনাগুলোর অধিকাংশই ঘটেছে নাননিং শহরের পূর্বাঞ্চলে একটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে। সেখানেই প্রায় ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া আরও ৯ জন নিখোঁজ।”
সূত্রের খবর, প্রবল বৃষ্টিতে গুয়াংজির একাধিক জলাধার উপচে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দুর্গতদের খুঁজতে ড্রোনের ব্যবহার করা হয়েছে। ঝড়ের পর বেশ কয়েকটি শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে ৬০ হাজারেরও বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলিও মেরামতির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।
দক্ষিণ গুয়াংজিতে টানা কয়েকদিন ধরে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছে। কোনও কোনও এলাকায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১০ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৯০ সেন্টিমিটার। যা বেশ কয়েকদিনের রেকর্ডকে ভেঙে দিয়েছে।
তবে আগামী দু-দিন কিছু এলাকায় আরও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। নাননিং শহরের আওতাধীন হংঝৌ (Hengzhou) শহরের যেসব এলাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেখানে কাদা ও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করছে প্রশাসন।











