রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

কেন হলো নেপালে ভয়াবহ বন্যা, কীভাবে কয়েক মিনিটে ভেসে গেল গোটা জনপদ?

Published on: August 29, 2026
Nepal Flash Flood
---Advertisement---

নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী রসুয়া জেলায় ভোতেকোশি নদীর ভয়াবহ বন্যার তিন দিন পরও কীভাবে এই বিপর্যয় ঘটল, তার পুরো ছবি স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞ এবং বিজ্ঞানীরা নানান তথ্যের ভিত্তিতে জানাচ্ছেন প্রথমে সাময়িক ভূমিকম্প মনে হলেও এখন সমস্ত তথ্যের ভিত্তিতে মনে হচ্ছে হিমবাহ ধসেই ঘটেছিল এই বিপর্যয়। এদিকে এখনও বেড়েই চলেছে মৃতের সংখ্যা। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা ৫৭৯। কয়েক শো মানুষ এখনও নিখোঁজ। তাঁদের মধ্যে ভারত, চিন, আমেরিকা, ইউক্রেন সহ বেশ কিছু দেশের বহু নাগরিক রয়েছেন। তবে দুর্ঘটনার মূল কারণ কী? কেন হঠাৎ এমন বিপর্যয় নেমে এলো নেপালের বুকে? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা।

Nepal Flash Flood: শুরুটা কীভাবে হয়েছিল?

২৬ অগস্ট সকালে প্রথমে মনে করা হয়েছিল, ভূমিকম্পের কারণে তুষারধস নেমে লেন্দে খোলা নদী আটকে যায় এবং সেখানে থাকা অস্থায়ী বাঁধ ভেঙেই বুঝি বন্যা হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা সংস্থা USGS প্রথমে ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্পকেও এর কারণ বলেছিল। পরে Planet Labs-এর উপগ্রহচিত্রে দেখা যায়, প্রায় ৫,২০০ মিটার উচ্চতা থেকে প্রায় ৬০০ মিটার চওড়া হিমবাহ ও পাথরের বিশাল অংশ প্রায় ১,২০০ মিটার নীচে ধসে পড়েছে। পরে USGS জানায়, এই বিশাল হিমবাহ ধস থেকেই ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পের মতো কম্পনের সংকেত তৈরি হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় ১০-২০ কোটি ঘনমিটার বরফ-পাথরের চাঁই ধসের কারণে নীচে নেমে নদীপথ আটকে দেয়। নেপালের জলবিদ্যা ও আবহাওয়া দফতরও চিনের দেওয়া উপগ্রহচিত্র দেখে বরফ ধস, পারমাফ্রস্টের নড়াচড়া এবং পাথর ধসের মিলিত প্রভাবের কথা জানিয়েছে। ধসের ব্যাপকতা একই বেশি ছিল যা নেপাল থেকে নেমে সীমান্ত পেরিয়ে চিনকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

কীভাবে এত ভয়াবহ হলো বন্যা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু হিমবাহ ধস নয়, এরপর নদী আটকে যাওয়াটাই ছিল বিপর্যয়ের মূল কারণ। হিমবাহ নীচে নামার সময় ঘর্ষণে বরফ গলে জল তৈরি হয়। সঙ্গে মাটি, পাথর ও পলি মিশে যায়। নদী আটকে যাওয়ার পর জল অস্থায়ী বাঁধের পিছনে জমতে থাকে। শেষ পর্যন্ত বাঁধ ভেঙে গেলে বিপুল জল, বরফ, পাথর ও কাদা একসঙ্গে নীচে নেমে আসে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা ভয়াবহ হড়পাবানে পরিণত হয়।

অবশেষ বিদেশি সাহায্যের দরজা খুলল নেপাল, উদ্ধারকাজে ভারত-চিনের বিশেষ দল

বিজ্ঞানীরা প্রথমে এটিকে হিমবাহ-হ্রদ উপচে গিয়ে তৈরি হওয়া বন্যা ভেবেছিলেন। কারণ গত বছরও ভোতেকোশিতে এমন বন্যা হয়েছিল, যা তিব্বতের হিমবাহের উপর থাকা একটি হ্রদে জলস্তর বেড়ে যাওয়ার ফলে ঘটে। তবে এবারের ঘটনা মূলত রক-আইস অ্যাভালাঞ্চ বা পাথর-হিমবাহ ধস বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জলবায়ু পরিবর্তনেরও কি যোগ আছে?

বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে হিমালয়ের হিমবাহ, পারমাফ্রস্ট ও পাহাড়ের ঢাল ক্রমশ বদলাচ্ছে। তবে এবারের নির্দিষ্ট ধসকে সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের ফল বলা এখনই সম্ভব নয়। ICIMOD-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০-২০২০ সালের মধ্যে হিন্দুকুশ-হিমালয়ের হিমবাহে প্রায় ১২ শতাংশ এলাকা এবং ৯ শতাংশ বরফের স্তর কমে গিয়েছে। ২০২১ সালের ভারতের চামোলি বিপর্যয়ের সঙ্গেও এই ঘটনার মিল রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাটির আর্দ্রতা মাপার সেন্সর, ড্রোন ও উপগ্রহের মাধ্যমে এমন ঝুঁকি আগে শনাক্ত করা সম্ভব। কিন্তু রসুয়ার মতো ঘটনায় সতর্কবার্তা বেশি আগে থেকে দেওয়া সম্ভব নয়। স্থানীয় আধিকারিক রাজেন্দ্র ধুঙ্গানা জানান, তিনি প্রায় ১০০ মিটার উঁচু জলের দেওয়ালের মতো স্রোত দেখেছিলেন। তাঁর কথায়, টিমুরে বাজার চোখের পলকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। (Nepal Flash Flood)

তাই এই ধরনের বিপর্যয় থেকে বেরোতে শুধু প্রশাসনের সতর্কবার্তা নয়, কোন পথে পালাতে হবে, কোথায় আশ্রয় নিতে হবে, শিশু-বৃদ্ধদের কীভাবে সরাতে হবে—এসব স্থানীয় মানুষকে নিয়মিত অনুশীলন করানো জরুরি। বিশেষজ্ঞদের কথায়, বিপদের উৎস ভূমিকম্প নাকি হিমবাহ ধস নাকি হড়পাবান তা নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষা না করে অস্বাভাবিক কিছু ঘটছে দেখলেই তা দ্রুত মানুষকে জানিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


Trishita Roy

স্কুলে পড়াকালীনই সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহ এবং ভালোবাসা থেকে এই পেশায় আসা। সমাজের মানুষের কাছে যেকোনো ঘটনার নির্ভুলভাবে তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য। বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ উইমেন্স কলেজ ক্যালকাটা তে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন বিভাগে স্নাতক স্তরে পাঠরতা। বিনোদন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক এবং রাজনৈতিক প্রতিবেদন লেখায় বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। অবসর কাটে সিনেমা দেখে, গান শুনে এবং বই পড়ার মাধ্যমে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment