মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা কূটনৈতিক উত্তেজনার মাঝেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে পাকিস্তানের ভূমিকা (Pakistan As Mediator) । ইসলামাবাদ নিজেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপের সেতু হিসেবে তুলে ধরলেও আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের দাবি, এই মধ্যস্থতার আড়ালে রয়েছে পাকিস্তানের নিজস্ব অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ।
ওয়াশিংটন-তেহরান দ্বন্দ্বে পাকিস্তানের সক্রিয়তা (Pakistan As Mediator)
সম্প্রতিক পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি অল্প সময়ের ব্যবধানে দু’বার ইরান সফর করেছেন। পাকিস্তানি সূত্রের দাবি, তিনি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা নিয়ে তেহরানে গিয়েছিলেন যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার পথ খোলা থাকে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, আলোচনায় দ্রুত অগ্রগতি না হলে সামরিক পদক্ষেপ ফের শুরু হতে পারে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কূটনীতির দরজা খোলা রাখার কথা বললেও সংঘাত আরও বড় আকার নিতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
অর্থনৈতিক সংকটে পাকিস্তান, উঠছে স্বার্থসংশ্লিষ্টতার অভিযোগ
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, পাকিস্তানের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এই কূটনৈতিক তৎপরতার মূল চালিকা শক্তি হতে পারে। ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বৈদেশিক ঋণের চাপ, আন্তর্জাতিক সহায়তার উপর নির্ভরতা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জের মধ্যে ইসলামাবাদ নতুন কৌশল নিচ্ছে— এমনটাই অভিযোগ।
কিছু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের দাবি, (Pakistan As Mediator) পাকিস্তান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের জন্য তুলনামূলক সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে তেহরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। যদিও এই দাবির পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো সরকারি প্রমাণ সামনে আসেনি।
খিদের জ্বালায় দেশ, ধার করে প্রতিরক্ষা খাতে খরচ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান
ইসরায়েলের সন্দেহ, বাড়ছে আঞ্চলিক উদ্বেগ
পাকিস্তানের এই সক্রিয় ভূমিকাকে (Pakistan As Mediator) ঘিরে প্রশ্ন তুলেছে ইসরায়েলের একাংশও। মুম্বইয়ে নিযুক্ত ইসরায়েলের কনসাল জেনারেল এবং ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রাক্তন ক্যাপ্টেন ইয়ানিভ রেভাচ পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রকাশ্যে সংশয় প্রকাশ করেছেন।তিনি সরাসরি বলেন, “ভয়াবহ। আমার মনে হয় না তারা সফল হতে পারবে। যে দেশ সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দেয়, সে কীভাবে মধ্যস্থতা করতে পারে? আমরা এমন একটি দেশকে বিশ্বাস করতে পারি না।”
মধ্যপ্রাচ্যের কিছু সংবাদমাধ্যম ও কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, পাকিস্তান যদি একইসঙ্গে মধ্যস্থতাকারী ও নিজস্ব কৌশলগত সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করে, তাহলে আলোচনার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
কূটনীতি না কৌশলী ভারসাম্য?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তান এক জটিল ভারসাম্যের খেলায় নেমেছে (Pakistan As Mediator) । একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা, অন্যদিকে প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করা— এই দ্বিমুখী কৌশল ইসলামাবাদের জন্য স্বল্পমেয়াদে লাভজনক হতে পারে। তবে সমালোচকদের মতে, যদি কোনো দেশ আলোচনার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করে নিজের অর্থনৈতিক বা ভূ-রাজনৈতিক লাভ নিশ্চিত করার চেষ্টা করে, তাহলে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এই মুহূর্তে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে যাচাই হওয়া বাকি। তবে ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্কের প্রতিটি নতুন মোড় এখন দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিকেও নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসছে।
ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ফোনালাপে ‘চুল খাড়া’ পরিস্থিতি, কী নিয়ে তীব্র মতবিরোধ ?












1 thought on “ওয়াশিংটন-তেহরান টানাপোড়েনে নতুন বিতর্কে পাকিস্তান, ‘মধ্যস্থতা’ নাকি অর্থনৈতিক কৌশল?”