নামে কী এসে-যায়। এই লোককথাকেই এবার বাস্তবে প্রমাণ করতে উদ্যোত হয়েছিল পাকিস্তান(Pakistan News)। সে দেশের ঐতিহ্যবাহী লাহোর শহরের বিভিন্ন স্থান, গলি এবং সড়কের ইসলামীয় নাম বদলে হিন্দু, শিখ, জৈন এবং ঔপনিবেশিক নাম ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রশাসন। এরপরই দেশে পরিবর্তনের হাওয়া আসছে বলে অনেকেই সরব হয়েছিলেন। কিন্তু সবটাই বিশবাঁও জলে। লাহোরের পুরনো পরিচিতি ফিরল না। দেশভাগের আগে সেখানকার রাস্তাঘাটের যে নাম ছিল, তা ফেরানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরতে হলো পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সরকারকে।
অভিযোগ, নাম পরিবর্তনে বাধা দিচ্ছে চরমপন্থী সংগঠনগুলো। তাদের হুঁশিয়ারির মুখেই হাত তুলে নিল সরকার।
সম্প্রতি পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সরকার সিদ্ধান্ত নেয় যে, লাহোরের বিভিন্ন রাস্তার হিন্দু, শিখ, জৈন, এমনকি ঔপনিবেশিক যুগের নামও ফিরিয়ে আনা হবে। আজও সেই সব নাম মুখে মুখে ফেরে। তাই খাতায় কলমে পুরনো নাম ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
লাহোরের ঐতিহ্য ধরে রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত নেন পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ। লাহোর হেরিটেজ এরিয়াজ় রিভাইভাল নামের ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা PML (N)-এর প্রধান নওয়াজ শরিফও।
ঠিক হয় সব পুরনো নাম ফিরিয়ে আনা হবে। সেই মতো লাহোরের ইসলামপুরের নাম পুনরায় কৃষ্ণনগর করা হয়। আগে ওই জায়গার নাম কৃষ্ণনগরই ছিল। পাশাপাশি, বাবরি মসজিদ চকের নাম আবারও জৈন মন্দির চকে ফিরিয়ে আনা হয়। মৌলানা জাফর আলি খান চকের নাম লক্ষ্মী চকে ফিরিয়ে আনা, মুস্তাফাবাদকে ধর্মপুর নামটি ফিরিয়ে দেওয়া, হামিদ নিজামি রোডের আগের নাম টেম্পল স্ট্রিট করায় সিলমোহর পড়ে।
পাকিস্তান তৈরির পর লাহোরের অনেক এলাকার নাম পরিবর্তন করে ইসলামীয় নাম করা হলেও লাহোরবাসীর কাছে পুরনো নামগুলি কখনওই হারিয়ে যায়নি। সংবাদমাধ্যম ‘দ্য প্রিন্ট’-কে প্রাচীরঘেরা শহর লাহোরের প্রাক্তন ডিরেক্টর জেনারেল তথা লাহোর মানবাধিকার কাউন্সিলের সচিব কামরান লশারি বলেন, ‘‘মানুষ এখনও ওই জায়গাগুলিকে পুরনো নামেই ডাকেন।’’ আর সে কারণেই পুরনো নাম ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু ওই যে সম্ভব নয়। চরমপন্থীদের বাধার মুখে পড়তে হলো পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজকে।
ফের বৈঠক ডাকা হয়। ইতিহাসবিদ, বিশেষজ্ঞ, স্থপতি, বিশিষ্টজনদের সঙ্গে আলোচনা হয় বিষয়টি নিয়ে। আপাতত গোটা প্রক্রিয়ার গতি শ্লথ করে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে মানুষের মতামত চাওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে।















1 thought on “লাহোরের রাস্তায় হিন্দু নাম নয়, কট্টরপন্থীদের চাপে পিছু হঠল পাকিস্তান”
Comments are closed.