ইউনেস্কোর (UNESCO) ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের সম্ভাব্য তালিকায় জায়গা পেল ভারতের আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের দুটি প্রাকৃতিক স্থান এবং ছত্তিসগঢ়ের একটি প্রত্নতাত্ত্বিক অঞ্চল এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই সংযোজন ভারতের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তালিকায় থাকা স্থানগুলি হল বারাটাংয়ের কার্স্ট-মাড ভলক্যানো কমপ্লেক্স, আন্দামান সাবডাকশন ভলক্যানো এবং ছত্তিসগঢ়ের শিরপুর সাংস্কৃতিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক অঞ্চল। (UNESCO World Heritage)
ইউনেস্কোর(UNESCO) কাছে ভারতের এই তিনটি স্থানের অন্তর্ভুক্তির কথা জানিয়েছে ইউনেস্কোতে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি দল। সমাজ মাধ্যম X-এ একটি বিবৃতি প্রকাশ করে এই ঘোষণা করা হয়। তবে সম্ভাব্য তালিকায় নাম ওঠা মানেই ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের চূড়ান্ত স্বীকৃতি পাওয়া নয়। এই তালিকা থেকে পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিক মনোনয়নের প্রক্রিয়া এগোতে পারে।
শিরপুরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব
ছত্তিসগঢ়ের মহাসমুন্দ জেলায় মহানদীর তীরে অবস্থিত শিরপুর। প্রাচীনকালে এই অঞ্চল ‘শ্রীপুর’ নামে পরিচিত ছিল। একসময় ধর্ম, সংস্কৃতি এবং বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল এই স্থান। এখানকার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে প্রাচীন ভারতের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়।সিরপুরের বিশেষত্ব হল, একই অঞ্চলে হিন্দু, বৌদ্ধ এবং জৈন ধর্মের নিদর্শন রয়েছে। মন্দির, বৌদ্ধ বিহার এবং অন্যান্য স্থাপত্যের ধ্বংসাবশেষ এই অঞ্চলের ধর্মীয় বৈচিত্র্যের পরিচয় দেয়। এখানকার অন্যতম উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য লক্ষ্মণ মন্দির। ভগবান বিষ্ণুকে উৎসর্গ করা এই ইটের মন্দিরটি সপ্তম শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছিল বলে জানা যায়। পাশাপাশি, বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ প্রমাণ করে যে একসময় সিরপুর বৌদ্ধ শিক্ষা ও ধর্মচর্চার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। (UNESCO World Heritage)
বারাটাংয়ের কাদা-আগ্নেয়গিরি
আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের বারাটাং দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে অবস্থিত কার্স্ট-মাড ভলক্যানো কমপ্লেক্স। স্থানীয়ভাবে এটি ‘জালকি’ নামে পরিচিত। এখানকার কাদা-আগ্নেয়গিরি থেকে ঠান্ডা কাদা, জল এবং গ্যাসের মিশ্রণ বেরিয়ে আসে। এই বিরল প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যই স্থানটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
আন্দামান সাগরের আগ্নেয়গিরি
তৃতীয় স্থানটি হল আন্দামান সাবডাকশন ভলক্যানো। আন্দামান সাগরে অবস্থিত এই আগ্নেয়গিরিগুলি বার্মা-আন্দামান-জাভা সাবডাকশন অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ আগ্নেয় বলয়ের অংশ। পোর্ট ব্লেয়ার থেকে প্রায় ১৩৫ থেকে ২৭০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরপূর্বে রয়েছে এই অঞ্চল। ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং আগ্নেয় প্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে এই স্থানগুলি গুরুত্বপূর্ণ। (UNESCO World Heritage)













1 thought on “বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতির পথে ভারতের নতুন ৩ স্থান, ইউনেস্কোর তালিকায় কী রয়েছে?”
Comments are closed.